রান উৎসবের ম্যাচে পাওয়েলের সেঞ্চুরিতে জিতল উইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্ক

নিকোলাস পুরান পাওয়ার প্লেতে করলেন বিস্ফোরক ব্যাটিং। পরে নেমে তাণ্ডব চালানোয় তাকে ছাড়িয়ে গেলেন রভম্যান পাওয়েল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার প্রথম সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন অভিষিক্তকে নিয়ে খেলতে নামা ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য তাড়ার শুরুতে কক্ষপথে রাখলেন টম ব্যান্টন। মাঝপথে দলটি খেই হারানোর পর ফিল সল্ট চালালেন লড়াই। কিন্তু উপযুক্ত সঙ্গীর অভাবে পেরে উঠলেন না তিনি।

বুধবার রাতে বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে রান উৎসবের ম্যাচে ইংলিশদের ২০ রানে হারিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে কাইরন পোলার্ডের দল। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২২৪ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে পুরো ওভার খেলে সফরকারীরা তুলতে পারে ৯ উইকেটে ২০৪ রান।

উইন্ডিজের জার্সিতে ম্যাচসেরা পাওয়েল ৫৩ বলে খেলেন ১০৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ১০ ছক্কা। ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর তিনি তিন অঙ্কে পৌঁছান ৫১ বলে। পুরান ৪ চার ও ৫ ছয়ে ৭০ রান করেন ৪৩ বলে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে পাওয়েলের সঙ্গে তিনি ৬৭ বলে আনেন ১২২ রান। ইংল্যান্ডের পক্ষে ব্যান্টন ৩৯ বলে ৭৩ রান করেন ৩ চার ও ৬ ছক্কায়। অভিষিক্ত সল্ট ২৪ বলে করেন ৫৭ রান। তার ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ৫ ছয়।

ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ব্র্যান্ডন কিংয়ের উইকেট হারায় ক্যারিবিয়ানরা। আরেক ওপেনার শেই হোপকে অন্য প্রান্তে রেখে পাওয়ার প্লেতে বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন পুরান। ষষ্ঠ ওভারে ফেরেন হোপ। এরপর জুটি বাঁধেন পুরান ও পাওয়েল। পাল্লা দিয়ে রান আনতে থাকেন তারা। ১৩তম ওভারে হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছান পাওয়েল। এরপর লিয়াম লিভিংস্টোনকে পিটিয়ে ফিফটি পূরণ করেন পাওয়েল। ওই ওভার থেকে আসে ২৬ রান।

লেগ স্পিনার আদিল রশিদ ১৭তম ওভারে পুরানকে সাজঘরে পাঠান লং-অনে লিভিংস্টোনের ক্যাচ বানিয়ে। তবে চলতে থাকে পাওয়েলের ছক্কা বৃষ্টি। ১৯তম ওভারে পেসার রিস টপলির শিকার হওয়ার আগে দলের সংগ্রহ দুইশ পার করেন তিনি। বেধড়ক পিটুনি খাওয়া ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে রশিদ ও টপলিই ছিলেন মিতব্যয়ী। এছাড়া, অভিষিক্ত জর্জ গারটন ৪ ওভারে ৫৭, টাইমাল মিলস ৪ ওভারে ৫২ ও লিভিংস্টোন ৩ ওভারে ৪২ রান খরচ করেন।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ডকে উড়ন্ত শুরু পাইয়ে দেন জেসন রয় ও ব্যান্টন। তবে ৩৩ রানে ভাঙে তাদের উদ্বোধনী জুটি। রোমারিও শেফার্ডের বলে জেসন হোল্ডারের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন রয়। অন্য প্রান্তে আগ্রাসন চালাতে থাকেন ব্যান্টন। কিন্তু তাকে ক্রিজে রেখে একে একে আউট হন জেমস ভিন্স, অধিনায়ক মঈন আলী ও লিভিংস্টোন।

২৯ বলে ফিফটি ছোঁয়া ব্যান্টন বিদায় নেন ত্রয়োদশ ওভারে। এরপর সল্ট প্রচেষ্টা চালালেও সঙ্গে পাননি কাউকে। আরেক অভিষিক্ত হ্যারি ব্রুক ১৩ বলে ১০ রানের মন্থর ইনিংস খেলায় কমেনি ওভারপ্রতি প্রয়োজনীয় রানের চাপ। ২২ বলে হাফসেঞ্চুরি স্পর্শ করে শেষ ওভারে বোল্ড হন সল্ট। আগের ওভারেই অবশ্য হয়ে যায় ম্যাচের ফয়সালা। শেষ ১২ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪১ রান। ১৯তম ওভারে উইন্ডিজ পেসার শেলডন কটরেল দেন মাত্র ৩ রান। ওই ওভারে গারটন হন বোল্ড, রশিদ হন রানআউট।

ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে পেস অলরাউন্ডার শেফার্ড সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। তবে তিনি ছিলেন ম্যাচের সবচেয়ে খরুচে বোলার। তার ৪ ওভার থেকে আসে ৫৯ রান। পোলার্ড ২ উইকেট নিতে ৪ ওভারে খরচ করেন ৩১ রান। কটরেল, হোল্ডার ও আকিল হোসেনও উইকেটের দেখা পান।