রেকর্ড লক্ষ্যের পথে চাপের মুখে বাবরের সেঞ্চুরি

স্পোর্টস ডেস্ক

জয়ের জন্য ৫০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য। স্কোরবোর্ডে ২১ রান তুলতে সাজঘরে ফিরলেন ইমাম উল হক ও আজহার আলী। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া পাকিস্তানকে ফের চোখ রাঙাচ্ছিল ব্যাটিং বিপর্যয়। তবে চাপ সামলে ওপেনার আসাদুল্লাহ শফিককে নিয়ে দারুণ এক জুটি গড়লেন বাবর আজম। অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে তিনি তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি।

মঙ্গলবার করাচি টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৯২ রান। হাতে ৮ উইকেট নিয়ে জয়ের জন্য আগামীকাল শেষদিনে তাদের দরকার আরও ৩১৪ রান। তবে পাকিস্তানের ব্যাটাররা যে কায়দায় খেলছেন, তাতে লক্ষ্যে ছোঁয়ার চেয়ে টিকে থেকে ম্যাচ বাঁচানোর দিকেই মনোযোগী তারা।

বাবর অপরাজিত আছেন ১০২ রানে। ১৯৮ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ১২ চার। তার সঙ্গী শফিক অপরাজিত আছেন ২২৬ বলে ৭১ রানে। ধৈর্যের অনুপম দৃষ্টান্ত দেখান তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে কেবল ৫ বাউন্ডারি- ৪ চার ও ১ ছক্কা। বাবর ও শফিকের অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটির রান ৩৬১ বলে ১৭১।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ২ উইকেটে ৯৭ রান তুলে। আগের দিনের ১ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে খেলতে নেমেছিল তারা। এদিন ৫.২ ওভারে ১৬ রান যোগ করতে দলটি হারায় মারনাস লাবুশেনের উইকেট। বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির ইয়র্কারে ছত্রখান হয়ে যায় তার স্টাম্প। লাবুশেন ৪৯ বলে করেন ৪৪ রান। তিনি আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনিংস ঘোষণা করেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ওপেনার উসমান খাওয়াজা অপরাজিত থাকেন ৭০ বলে ৪৪ রানে।

প্রথম ইনিংসে ৪০৮ রানের লিড পাওয়া অস্ট্রেলিয়া সব মিলিয়ে ছুঁড়ে দেয় ৫০৬ রানের লক্ষ্য। পাহাড়সম এই লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা হয় একেবারে ধীরগতির। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে ঘটে বিপদ। দলীয় ২ রানে অফ স্পিনার নাথান লায়নের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ওপেনার ইমাম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ১৮ বলে ১ রান করা এই বাঁহাতি।

মাটি কামড়ে পড়ে থাকার কৌশল ছিল পরের জুটিরও। দ্বিতীয় উইকেটে শফিক ও আজহার ৯৯ বলে আনেন ১৯ রান। ২৩তম ওভারে কাটা পড়েন আজহার। ৫৪ বলে ৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ক্যামেরন গ্রিনের শর্ট বল মাথা নুইয়ে ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল লাফায়নি প্রত্যাশিত মাত্রায়। বল আজহারের গায়ে লাগার পর অজিদের এলবিডব্লিউয়ের জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার।

বাবর উইকেটে যাওয়ার পর পাকিস্তানের রানের চাকা কিছুটা সচল হয়। ৮৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করার পর তিনি সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১৮০ বলে। অজিদের কোনো সুযোগ দেননি তিনি। তবে শফিককে ফেরাতে পারত সফরকারীরা। কামিন্সের বলে স্লিপে তার সহজ ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন স্টিভেন স্মিথ। তখন শফিক ছিলেন ২০ রানে। এরপর নির্বিঘ্নে বাকি সময় পার করে পাকিস্তান।