শততম টেস্টে আগামী প্রজন্মের প্রতি কোহলির বার্তা
টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা নিয়ে শততম ম্যাচে খেলতে নামলেন বিরাট কোহলি। তার ভালোবাসার মাত্রা কতখানি তা বোঝা গেল ব্যাট-বলের লড়াই শুরুর আগে বলা কিছু কথায়। শুভক্ষণে পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে এমন এক বার্তা দিলেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার, যা তাদেরকে অনুরাগী করে তুলবে টেস্টের প্রতি।
টি-টোয়েন্টির যুগেও কোহলির মনের মধ্যে বিশেষ একটি স্থান রয়েছে পাঁচ দিনের ক্রিকেটের জন্য, এটা সবারই জানা। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি খেলে থাকেন টেস্ট। এই সংস্করণে শততম ম্যাচ খেলা তাই তার জন্য নিঃসন্দেহে ভীষণ গর্ব ও আনন্দের।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটের স্বর্ণ যুগে ১০০ টেস্ট খেলা সত্যিকার অর্থেই দারুণ অর্জন। কোহলির নিজেও ভালো করে জানেন তা। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাই অনুসরণীয় এক বার্তা দেন তিনি, যা মোটেও চমক জাগানিয়া নয়, 'বর্তমান সময়ে আমরা যে হারে তিন সংস্করণের ক্রিকেট আর আইপিএল খেলি, সেটা বিবেচনায় নিয়ে আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আমার কাছ থেকে যেটা গ্রহণ করতে পারে, তা হলো আমি ক্রিকেটের সবচেয়ে খাঁটি সংস্করণে ১০০ ম্যাচ খেলেছি।'
শুক্রবার মোহালিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নেমেছে ভারত। এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট খেলার সেঞ্চুরি পূরণ হলো সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার কোহলির। স্বদেশি কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলিদের পথ ধরে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। ভারতের ১২তম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। আর সব দেশ মিলিয়ে তার অবস্থান ৭১ নম্বরে।
টসের আগে স্মরণীয় করে রাখা হয় কোহলির শততম টেস্ট খেলতে নামার দিনটিকে। স্মারক হিসেবে তার হাতে বিশেষ ক্যাপ তুলে দেন ভারতের প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়। সেই মুহূর্তে কোহলির পাশে ছিলেন স্ত্রী আনুশকা শর্মা। আর গ্যালারিতে ছিলেন তার ভাই বিকাশ কোহলি। তখন কোহলি স্মরণ করেন তার গৌরবময় যাত্রার পেছনে অবদান রাখা সকলকে, 'আমার জন্য এটি খুব বিশেষ একটি মুহূর্ত। আমার স্ত্রী রয়েছে এখানে। আমার ভাই রয়েছে গ্যালারিতে। সবাই আমাকে নিয়ে খুব গর্বিত। ক্রিকেট একটি দলগত খেলা। তোমাদের (সতীর্থ) ছাড়া এই পথচলাটা আমার পক্ষে সম্ভব হত না। বিসিসিআইকেও (ভারত ক্রিকেট বোর্ড) ধন্যবাদ।'
ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়ার পর এটাই কোহলির প্রথম ম্যাচ। এর আগে ৯৯ টেস্টে ৫০.৩৯ গড়ে তিনি করেছেন ৭৯৬২ রান। ২৮ হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে তার নামের পাশে রয়েছে ২৭ সেঞ্চুরি। সাতটি সেঞ্চুরিকে আবার ডাবলে পরিণত করেছেন তিনি। ২০১১ সালের জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল কোহলির। টেস্টের সেঞ্চুরিটা তিনি পূরণ করতে পারতেন সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। কিন্তু চোটের কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে না পারায় অপেক্ষা বাড়ে তার। তাতে অবশ্য খারাপ হয়নি। ঘরের মাটিতে নিজ দেশের ভক্তদের সামনে মাইলফলক স্পর্শের স্বাদ পেলেন কোহলি।