সাকিবকে তিন সংস্করণের চুক্তিতে রাখার ব্যাখ্যা দিলেন মিনহাজুল
সাকিব আল হাসানের টেস্ট খেলার আগ্রহ নিয়ে আছে প্রশ্ন। গত কয়েক বছর ধরে এই সংস্করণে খুব কমই খেলতে দেখা গেছে তাকে। আগামীতেও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত হবেন কিনা সেটা নিশ্চিত নয়। তারপরও চলতি বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তিন সংস্করণেই তাকে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচক নাজমুল আবেদিন নান্নু জানালেন, তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী সাকিবকে পাওয়া যাবে সব সংস্করণেই।
বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি প্রকাশের পর সাকিবের টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির চুক্তিতে থাকা জন্ম দিয়েছে আলোচনার। বাংলাদেশের সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে পারিবারিক কারণে টেস্ট সিরিজে খেলতে যাননি এই তারকা অলরাউন্ডার। আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তিনি নেই আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম পাওয়ায়। অর্থাৎ এই বছরে বাংলাদেশের প্রথম চার টেস্টের একটিতেও থাকছেন না তিনি। গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরেও টেস্ট সিরিজে সাকিব ছিলেন অনুপস্থিত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার টেস্টের চুক্তিতে থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
চুক্তির তালিকা প্রকাশের পরদিন শুক্রবার মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল সাকিবের চুক্তির ব্যাখ্যায় বলেন, 'ও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম নিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে। তারপর থেকে ওকে পাওয়া যাবে। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, সে অনুযায়ী তিন সংস্করণের জন্যই ওকে পাওয়া যাবে।'
পাশাপাশি সাকিবের কাছে তাদের চাহিদার কথাও তুলে ধরেন মিনহাজুল, 'ও অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। ওর কাছে সব সময় সেরাটাই আমরা চাই। সেজন্য ওকে তিন সংস্করণেই রাখা হয়েছে। যেহেতু এ বছর আমাদের অনেক খেলা আছে, আগামী এক বছর আমরা সাকিবের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স চাচ্ছি।'
গত রবিবার দুবাই যাওয়ার আগে সাকিব জানান, মানসিক ও শারীরিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলার মতো অবস্থায় নেই তিনি। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেস্ট থেকে বিরতি চেয়ে বোর্ডে চিঠি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। তবে তার সেই আবেদন গৃহীত হয়নি। তাকে দুই মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম দিয়েছে বিসিবি।
ইতোমধ্যে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন সাকিব। মিনহাজুল জানান, সাকিবের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তারা, 'আমরা প্রায় এক মাস আগে (চুক্তির) এই তালিকা জমা দিয়েছি। ও আসলে অবশ্যই কথা বলব। ২০২২ সালে তিন সংস্করণেই অনেক খেলা আছে। সে হিসাবে আমাদের অনেক খেলোয়াড় লাগবে। সেরা খেলোয়াড়কে আমরা সবসময়ই তিন সংস্করণেই চাই। আশা করছি, সতেজ হয়ে ফিরে এসে সে তিন সংস্করণেই খেলবে।'
বিরতি চাইলেও সাকিব কখনোই টেস্ট থেকে সরে দাঁড়াতে চাননি জানিয়ে আরেক নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক বলেন প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা, 'কেউ এক-দুটি সিরিজ বিশ্রাম নিলে তাকে তিন সংস্করণের চুক্তিতে রাখা যাবে না, এটা না। এখানে প্রক্রিয়া হলো, বোর্ড প্রথমে কথা বলেছে যে কে কোন সংস্করণে খেলতে চায়। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাকিব কিন্তু এখনও কোনো সংস্করণে থেকে সরে যায়নি। সাকিব এই মাপের খেলোয়াড় যে নিজে থেকে কোনো সংস্করণ থেকে সরে না গেলে বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া কঠিন। এখনও সাকিবের সঙ্গে আমাদের ওরকমভাবে কথা হয়নি।'
প্রাধান নির্বাচক মিনহাজুলের মতে, সাকিব বারবার সরে দাঁড়ানোতে তাদের পরিকল্পনায় সমস্যা হচ্ছে, 'অবশ্যই। এখানে একটা পরিকল্পনা সব সময় থাকে। সেই পরিকল্পনায় একটা সিরিজের দল দেওয়া হয়। সে না যাওয়াটা অবশ্যই বিপর্যয়ের মতো। না গেলে জোর করে তো খেলানো যাবে না। সামনে যা আছে, তা দিয়েই সেরাটা দিতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যারা গেছে, তারাও সামর্থ্যবান, ভালো ক্রিকেট খেলে। আশা করি, ভালো একটা সিরিজ হবে।'