বিপিএল হবে সীমিত পরিসরে, আভাস বিসিবি প্রধানের
মাঝের বিরতির পর আবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চালু হওয়ার সকল তোড়জোড় চলছিল। তবে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানালেন, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার বিপিএল পরিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততা ও শীর্ষ ক্রিকেটারদের বিশ্রামের কথা মাথায় নিয়ে টুর্নামেন্টের পরিসর কমিয়ে আনা হতে পারে।
করোনাভাইরাস মহামারির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর থেকেই টানা ব্যস্ত সূচির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। করোনাভাইরাসের কারণে জৈব সুরক্ষা বলয়ের ধকলে ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে কাহিল।
নিউজিল্যান্ডে গিয়ে সাতদিনের বদলে অপ্রত্যাশিত কারণে কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ বেড়ে গিয়েছে। ২১ তারিখ আরেক দফা কোভিড-১৯ পরীক্ষায় খারাপ খবর আসলে সেই মেয়াদ আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা।
প্রাথমিকভাবে বিপিএল শুরুর তারিখ ধরা হয়েছিল ২০ জানুয়ারি। তবে জাতীয় দলের সিরিজকে প্রাধান্য দিয়ে এখন বিপিএলের সময়সূচি বদলের সম্ভাবনা প্রবল। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সভা শেষে এমন আভাসই দিলেন বিসিবি প্রধান, 'এই সিরিজ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। এটার সঙ্গে বিপিএলের কোন তুলনাই হয় না। আফগানিস্তান যে আসবে, সেখানে ওয়ানডেটা আবার চ্যাম্পিয়নশিপ (সুপার লিগ)। এইগুলার সঙ্গে মিলালে বিপিএলটা গুরুত্বপূর্ণ না। বিপিএলটা দরকার আমাদের এই কারণে আমাদের আগামী বছরও একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। এবং বিপিএলের মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড় চিহ্নিত করতে সাহায্য হয়। কিন্তু কীভাবে করব? আমরা যে পরিকল্পনা করেছিলাম সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নাও হতে পারে।'
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সময়টাতেই করতে হবে বিপিএল। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে আবার আছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ। পরেও টানা আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা। সব বাস্তবতা মেনেই তাই বিপিএল এবার সীমিত পরিসরে আয়োজনের চিন্তা বিসিবির। সেটা কীভাবে হতে পারে তারও ধারণা দিলেন বোর্ড প্রধান, 'কাটছাঁট কিছু একটা করতে হতে পারে । উদাহরণ হিসেবে বলছি ওখানে (নিউজিল্যান্ড) যারা আছে তাদের বাদ দিয়ে চালু হয়ে যাবে। তাদেরকে দুইচারদিন বিশ্রাম দেয়া হবে। পরে ওরাও যোগ দিবে। ওরা খেলবে না হয়ত, তারা জয়েন করবে এবং তাদের পেমেন্টটা পাবে। ওরা অর্থনৈতিক ক্ষতিতে পড়লে বোর্ড সেটা বহন করবে। আমাদের তিনটা ভেন্যুর জন্য ছয়দিন ট্রাভেল আছে। ভেন্যু একটা কমালে দুই দিন বাঁচাতে পারি। এমনটা করবই এটা বলছি না। এটা একটা অপশন। আরেকটা হচ্ছে ছয়টা দলের জায়গায় পাঁচটা দল করলে আমরা চার-পাঁচদিন সময় পাই। ২১ তারিখে সিদ্ধান্তটা জানার পরে নির্দিষ্ট করে বলতে পারব।'
বিপিএলের ভেন্যু, দলসংখ্যা সবই তাই নির্ভর করছে ২১ তারিখ নিউজিল্যান্ড সফররত টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার রিপোর্টের উপর।