সেই রুশোর ব্যাটে ইংল্যান্ডকে হারাল দ. আফ্রিকা
কলপ্যাক চুক্তি করে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় বলেছিলেন রাইলি রুশো। তবে ব্রেক্সিটের প্রভাবে কলপ্যাক রুলিং অকার্যকর হয়ে গেলে ফিরে আসেন স্বদেশেই। প্রায় ছয় বছর পর। প্রথম ম্যাচটা ভালো যায়নি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন এ ব্যাটার। ইংলিশদের মাঠেই অসাধারণ এক ইনিংস খেলে তাদের হারানোর মূল নায়ক তিনি।
বৃহস্পতিবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫৮ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৭ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ বল বাকি থাকতেই ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে প্রোটিয়ারা। তবে শুরুটা ভালোই করে দলটি। দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও রিজা হেন্ডরিকসের জুটিতে আসে ৩৯ রান। ডি কককে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন মইন আলী। এরপরই মাঠে নামেন রুশো। উইকেটে নেমে শুরু থেকেই বিধ্বংসী রূপে আবির্ভাব হন এ ব্যাটার।
তবে কিছুটা দুর্ভাগ্য ছিল রুশোর, সেঞ্চুরিটা পেয়েই যেতে পারতেন। মাত্র চার রানের জন্য সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি তার। শেষ ওভারেও তিনটি বল খেলেছেন। তা থেকে নিয়েছেন কেবল ৩ রান। শেষ বলে যখন ক্রিস জর্ডানের মুখোমুখি হন, তখনও আশা ছিল। একটি বাউন্ডারিতেই পেতে পারতেন তিন অঙ্কের দেখা। কিন্তু বলে ব্যাটেই এক করতে পারেননি এ তারকা।
তবে সেঞ্চুরি না পেলেও দলকে ঠিকই জিতিয়ে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন তিনি। হেন্ডরিকসের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। এরপর হেনরিক ক্লাসেন সঙ্গে ৩১ ও ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৬৪ রানের জুটি গড়ে মাঠে ছাড়েন তিনি। তাতেই বড় পুঁজি মিলে দলটির।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন রুশো। ৫৫ বলের ইনিংসটি ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজিয়েছেন এ ব্যাটার। হেন্ডরিকসের ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। ৩২ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন এ ওপেনার।
জবাবে ইংলিশদের শুরুটা ছিল ভালোই। জেসন রয় ও জস বাটলার ৩৭ রানের জুটি গড়েন। জেসনকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন তাবরাইজ সামসি। এরপর স্কোরবোর্ডে আর ১১ রান যোগ হতে ডেভিড মালানকে তুলে নেয় দলটি। তাকে শিকার করেন কেশব মহারাজ।
এরপর অবশ্য আগের দিন ঝড় তোলা মইন আলীকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক জস বাটলার। স্কোরবোর্ডে ২৯ রান যোগও করেছিলেন এ দুই ব্যাটার। মইনকে ফিরিয়ে ইংলিশ শিবিরে তখন জোরালো ধাক্কা দেন সামসি। এরপর স্যাম কারানও আউট হলে বেশ চাপেই পড়ে যায় ইংল্যান্ড।
তবে তখন উইকেটে ছিলেন জনি বেয়ারস্টো। আগের দিন তার বিধ্বংসী ইনিংসেই জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। লিয়াম লিভিংস্টোনের সঙ্গে ৩৬ রানের জুটিও গড়েছিলেন। তবে বড় ক্ষতি করার আগেই তাকে ফেরান কাগিসো রাবাডা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইংলিশরা। ২১ রানের ব্যবধানে হারায় শেষ পাঁচ উইকেট।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রানের ইনিংস খেলেন বেয়ারস্টো। ২৯ রান করেন অধিনায়ক বাটলার। ২৮ রান আসে মইনের ব্যাট থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন আন্দিল ফেলুকায়ায়ো ও সামসি। দুটি শিকার লুঙ্গি এনগিডির।