'প্রথম' সেঞ্চুরি করে হাজার রানের মাইলফলকে অমিত
স্বপ্নের মতোই যেন মৌসুমটি কাটছে অমিত হাসানের। ২০২১-২২ মৌসুম জুড়ে অসাধারণ ছন্দে আছেন তিনি। জাতীয় লিগে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন। করেছেন বিসিএলেও। সে ধারা ধরে রেখেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে দারুণ সেঞ্চুরি করে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির এ তরুণ ব্যাটার।
বুধবার সাভারের বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ১৩৬ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত অমিত। এ রান করতে ১২টি চার মেরেছেন এ ব্যাটার। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে এটাই তার প্রথম সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে এ মৌসুমে হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এ তরুণ।
মাঠে নামার আগে মৌসুম অমিতের মোট রান ছিল ৯১২ রান। ৮৪ রানের ইনিংস খেলতে পারলেই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হাজার রানের কোটা স্পর্শ করতে পারতেন তিনি। সেঞ্চুরি দিয়েই এ নজির গড়েন এ তরুণ।
জাতীয় লিগে এবার ছয় ম্যাচের ১১ ইনিংসে ব্যাট করে দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরিতে ৫৯ গড়ে ৫৯০ রান করেন অমিত। সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৮৬ রান। আর বিসিএলে চার ম্যাচে ছয় ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি সহ বিসিবি দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে ৬৪.৪০ গড়ে করেন ৩২২ রান।
অমিতের প্রথম সেঞ্চুরিতে এদিন ৭ উইকেটে ২২১ রান করে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। দলীয় ১১ রানে পিনাক ঘোষ ফিরে যাওয়ার পর উইকেটে নামেন অমিত। আগের পাঁচ ওভারে ১১ রান করা দলটি এরপরের ওভারেই জুটি ভাঙা মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরিকে মারেন দুটি চার। তার পরের ওভারে মারেন আরও দুটি।
প্রিতম কুমারের সঙ্গে ৫৩ রানের জুটিতে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন অমিত। ৩১ বলে ৩১ রান করা প্রিতম আউট হওয়ার পর কিছুটা দেখে শুনে খেলেন। এরপর ভারতীয় ব্যাটসম্যান অশোক মেনারিয়ার সঙ্গে গড়েন ৭৭ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙতে ২৩ রানের ব্যবধানে ৪টি উইকেট হারায় খেলাঘর।
তবে এক প্রান্ত আগলে রাখেন অমিত। বাধ্য হয়ে কিছুটা খোলসে ঢুকে সাবধানী ব্যাটিং করতে থাকেন। শেষ দিকে মাসুম খানের সঙ্গে গড়েন আরও একটি জুটি। ৫৯ বলে ফিফটি স্পর্শ করা এ ব্যাটার তিন অঙ্কের কোটায় পৌঁছান ১৩৩ বলে। পেরিয়ে যান এক হাজার রানের সীমানা।
এর আগে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শাইনপুকুরের হয়ে ৭ ম্যাচে ১৬.৬০ গড়ে করেছিলেন মাত্র ৮৩ রান। আর বিসিএলের ওয়ানডে টুর্নামেন্টে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে এক ইনিংসে ব্যাট করে করেন ২৯ রান। এ ম্যাচের আগে লিস্ট এ ক্রিকেটে তার সংগ্রহ ছিল ৮ ম্যাচে ১১২ রান।