স্বল্পমেয়াদে চুক্তি বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ল্যাঙ্গারের পদত্যাগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ হিসেবে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী জুনে। তার এই চুক্তি স্বল্পমেয়াদে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কিন্তু সেটা প্রত্যাখ্যান করে কোচের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন দলটির সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।

শনিবার ল্যাঙ্গারের ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ডিএসইজির এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, 'ডিএসইজি নিশ্চিত করছে যে আমাদের মক্কেল জাস্টিন ল্যাঙ্গার অস্ট্রেলিয়ার ছেলেদের ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে আজ সকালে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এক সভার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।'

চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আগের দিন শুক্রবার মেলবোর্নে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সভা হয় ল্যাঙ্গারের। প্রায় আট ঘণ্টার ওই বৈঠক শেষে সিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ল্যাঙ্গারের সঙ্গে তাদের একান্ত আলোচনা হয়েছে এবং এই আলোচনার ফলাফল দ্রুতই জানানো হবে।

কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ল্যাঙ্গার। গত বছর অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়াকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও গত মাসে অ্যাশেজ জেতানো এই কোচের চাওয়া ছিল দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি বাড়ানো। কিন্তু তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল স্বল্পমেয়াদে চুক্তি বৃদ্ধির।

ল্যঙ্গারের ঘোষণার সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ছেলেদের দলের প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ স্বল্প আকারে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা গ্রহণ করেননি।'

অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে সিনিয়র সহকারী কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের নাম ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য অবশ্য তাকে আগেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কারণ, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল ল্যাঙ্গারকে। তিনি সরে যাওয়ায় আগামী মার্চে অজিদের পাকিস্তান সফরেও দায়িত্ব পালন করবেন ম্যাকডোনাল্ড।

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর যখন ভীষণ সংকটে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া, তখন প্রধান কোচ হয়েছিলেন ল্যাঙ্গার। শুরুটা ভালো না হলেও ধীরে ধীরে দলকে সাফল্যের দিশা দেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজ জিতে শেষটা সোনায় মোড়ানো হলেও মাঝে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। তার অধীনে বাংলাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছিল অজিরা।