৩৭ পেরিয়েও কার্তিকের বিস্ফোরক হওয়ার গল্প
দিনেশ কার্তিকের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। গত বছর ভারতের ইংল্যান্ড সফরে তাকে ধারাভাষ্য বক্সে দেখে মিলছিল বিদায়ের আভাস। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে নতুন রূপে হাজির হয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। আইপিএল মাতানোর পর ভারতের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও ফিনিশারের ভূমিকাটা তার অনেকটা পাকা। তবে এই অবস্থায় আসার পেছনে যে আছে কঠোর পরিশ্রম ও আর প্রবল মনোবলের গল্প।
চলতি বছরের শুরুতে আইপিএলের জন্য প্রস্তুত হতে সাবেক সতীর্থ ও বর্তমান কোচ অভিষেক নায়ারের কাছে যান কার্তিক। তাকে গিয়ে বলেছিলেন বলেছিলেন, 'ভারতীয় দলে আমাকে ফিরতেই হবে। এজন্য যতটা পরিশ্রম দরকার করব।'
সেই থেকে শুরু হয় ৩৭ পেরুনো কার্তিকের খাটুনি। কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাতকারে সেই গল্পই শুনালেন নায়ার, 'চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় প্রস্তুতি। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, সবাইকে ভুল প্রমাণ করব। কার্তিকের মধ্যে যে এখনো অনেক খেলা বাকি সেটা দেখাতে হবে।'
দেখিয়েছেনও বটে। ২০২২ আইপিএলে ১৬ ম্যাচে খেলে ১৮৩.৩৩ স্ট্রাইকরেটে কার্তিক করেন ৩৩০ রান। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে মোড় ঘোরানো অনেক ইনিংস খেলেছেন। তাকে শেষ পর্যন্ত ফেরাতেই হয়েছে জাতীয় দলে।
জাতীয় দলে ফিরেও কাজটা ঠিকঠাক করে চলেছেন তিনি। সাত নম্বরে নেমে যে কটি বল পাচ্ছেন তাতে রান নিয়ে যাচ্ছেন চূড়ায়। ২১ বলে অপরাজিত ৩০, ৩৪ বলে ৫৫, ১৯ বলে অপরাজিত ৪১- এরকম ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াগামী দলে জায়গাটা করেই ফেলেছেন তিনি।
নায়ার জানালেন, এবার প্রস্তুতির আগে দলে নিজের ভূমিকাটা নির্দিষ্ট করে নিয়েছিলেন তিনি , 'আগে যেকোনো পজিশনে ব্যাট করত। নির্দিষ্ট কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমরা আলোচনা করে ঠিক করি, ফিনিশারের ভূমিকা নিতে হবে। ভূমিকা ঠিক থাকলে সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া যায়।'
পেসারদের বলেও কার্তিককে অনায়াসে মারতে দেখা যায় সুইপ। স্কুপ, রিভার্স স্কুপ, আপার কাট। কোমর আর কব্জির জোরে বল উড়ানো। অনেকগুলো অস্ত্র যোগ করেছেন। তবে তা করতে প্রতিদিন কঠোর খাটতে হয়েছে তাকে, 'প্রতি দিন চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা ব্যাট করত। ক্রিকেট ব্যাকরণ মেনে শট খেলার পাশাপাশি নতুন শট আবিষ্কার করতে শুরু করে। যেমন পেসারকে সুইপ মারা। এই শটের গুরুত্ব অন্য রকম। শেষের ওভারে ফাইন লেগ বৃত্তের মধ্যে থাকে। ব্যাটে ঠিক মতো বল লাগলে চার আসবেই। সেই সঙ্গেই মারত স্কুপ। শুধুমাত্র প্রথাগত স্কুপ নয়। রিভার্স স্কুপ মারার প্রস্তুতিও নিত।'
'মাঠে যে শট ওকে এখন খেলতে দেখছেন, তা কিন্তু হঠাৎ করে মারতে শুরু করেনি। প্রত্যেকটি শট দু'ঘণ্টা করে অনুশীলন করত। স্কুপ হোক কি থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে আপার কাট, আলাদা সময় ভাগ করে নিয়ে মহড়া চলত। বোলারের বিরুদ্ধে রান বার করাই শুধু নয়, রীতিমতো পরীক্ষায় ফেলছে কার্তিক।'
নায়ারের মতেও লক্ষ্য অবিচল থাকলে বয়সের বাধা দূর করে পাওয়া যায় ফল, 'যদি লক্ষ্য ঠিক থাকে তাহলে সমস্যা হয় না। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে ফল পাওয়া যায়।'