পেদ্রির চোখ ধাঁধানো গোলে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠল বার্সেলোনা
সহজাত ফুটবল খেলে সুযোগের পর সুযোগ তৈরি করছিল বার্সেলোনা। কিন্তু কখনও বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন সেভিয়ার গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো, আবার কখনও ক্রসবার জাগাচ্ছিল হতাশা। অবশেষে ৭২তম মিনিটে এলো উল্লাসে মাতোয়ারা হওয়ার ক্ষণ। ডি-বক্সের মাথায় বল পেয়ে চোখ ধাঁধানো এক গোল করে বসলেন পেদ্রি। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের লক্ষ্যভেদ গড়ে দিল ম্যাচের ভাগ্য। পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে কাতালান ক্লাবটি উঠে গেলে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে।
রোববার রাতে লা লিগায় ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে জমজমাট লড়াইয়ে ১-০ গোলে জিতেছে বার্সা। এই নিয়ে আসরে টানা ছয় ম্যাচে জয়ের স্বাদ নিয়েছে তারা। গত বছরের এপ্রিলের পর এমন ঘটনা ঘটল প্রথমবার। আর ২০০২ সাল থেকে বার্সাকে তাদের মাঠে হারাতে না পারার ব্যর্থতার বৃত্ত আরও জমাট হলো সেভিয়ার জন্য।
৫৬ শতাংশ বল পায়ে রাখা স্বাগতিকরা প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৯ শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে ছয়টি। অন্যদিকে, আক্রমণাত্মক ঢঙে খেলা সফরকারী সেভিয়ার আট শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে।
ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটে প্রথম সুযোগ আসে বার্সার সামনে। তবে উসমান দেম্বেলের ক্রসে হেড জায়গামতো রাখতে পারেননি ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। এরপর অনেকটা সময় খেলা চলে মাঝমাঠে। গোলমুখে গিয়েই নিভে যেতে থাকে দুই দলের আক্রমণগুলো। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে সেভিয়াকে পড়তে হয় চাপের মুখে। ৩৯তম মিনিটে ফেরান তরেসের দুর্বল শট ফিরিয়ে দেন বোনো। যোগ করা সময়ে পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াংয়ের শটও ফাঁকি দিতে পারেনি তাকে।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বার্সেলোনার গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে দিতে হয় পরীক্ষা। ৪৭তম মিনিটে এরিক লামেলার শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন তিনি। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে এরপর ফের চালকের আসনে বসে পড়ে কোচ জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যরা। ৬৯তম মিনিটে জেরার্দ পিকের হেডে পরাস্ত হয়েছিলেন বোনো। কিন্তু ক্রসবারে বল আটকে যাওয়ায় অক্ষত থাকে সেভিয়ার জাল।
তিন মিনিট পরই রীতিমতো অবিশ্বাস্য এক গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে দুবার সেভিয়ার ডিফেন্ডারদের ডজ দিয়ে পেদ্রি নেন জোরালো কোণাকুণি শট। ঝাঁপিয়ে পড়া বোনোর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এড়িয়ে বল চলে যায় জালে। হাজার হাজার ভক্তের গর্জনে গমগম করে ওঠে গোটা ক্যাম্প ন্যু। ৭৭তম মিনিটে দেম্বেলের ক্রসে ফেরানের হেড পরাস্ত করতে পারেনি বোনোকে। তাই ব্যবধানও বাড়াতে পারেনি বার্সা।
৮৫তম মিনিটে গঞ্জালো মন্তিয়েলকে পিকে ফাউল করলে মাঠে ছড়ায় উত্তেজনা। সেভিয়ার খেলোয়াড়রা পিকেকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি করেন। তবে ফাউল, বাকবিতণ্ডা ও প্রতিবাদ মিলিয়ে রেফারি পিকে ও মন্তিয়েলসহ দুই দলের তিন খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান।
গোল ব্যবধানে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ও সেভিয়াকে টপকে লা লিগায় দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে বার্সেলোনা। ২৯ ম্যাচে তাদের অর্জন ৫৭ পয়েন্ট। এক ম্যাচ করে বেশি খেলা অ্যাতলেতিকো ও সেভিয়ার পয়েন্টও একই। তবে বার্সার গোল ব্যবধান যেখানে +২৮, সেখানে অ্যাতলেতিকো ও সেভিয়ার +২০। আসরের শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পার্থক্য ১২ পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে বার্সেলোনা। ৩০ ম্যাচে রিয়ালের নামের পাশে রয়েছে ৬৯ পয়েন্ট।