বদলি গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে টাইব্রেকারে জিতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও তখন শেষের পথে। কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড সেসময় নিলেন চমকপ্রদ এক সিদ্ধান্ত। অধিনায়ক ম্যাট রায়ানকে তুলে মাঠে নামালেন অ্যান্ড্রু রেডমেইনকে। টাইব্রেকারে গুরুর আস্থার সর্বোচ্চ প্রতিদান দিলেন এই বদলি গোলরক্ষক। ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দিলেন আলেক্স ভালেরার স্পট-কিক। ফলে পেরুকে কাঁদিয়ে কাতার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল অস্ট্রেলিয়া।

সোমবার রাতে কাতারের আহমাদ বান আলী স্টেডিয়ামে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পেরুর বিপক্ষে ৫-৪ গোলে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। টানা পঞ্চম ও সবমিলিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে সকারুরা। ফলে এবার এশিয়া অঞ্চল থেকে রেকর্ড ছয়টি দল খেলবে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে। বাকিরা হলো স্বাগতিক কাতার, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও সৌদি আরব।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে গ্রুপ 'ডি'। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও তিউনিসিয়া। এই গ্রুপের বাধা পেরিয়ে আসরের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া ভীষণ কঠিন হবে তাদের জন্য।

পুরো ম্যাচে সমানতালে লড়লেও তেমন ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পেরু ও অস্ট্রেলিয়া। ৪৭ শতাংশ সময়ে বল পায়ে রাখা অস্ট্রেলিয়া গোলমুখে ১১ শট নিয়ে দুটি রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে, ৫৩ শতাংশ সময়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখলেও গোলমুখে পেরুভিয়ানদের ১০ শটের কেবল একটি ছিল লক্ষ্যে।

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে নায়ক বনে যান রেডমেইন। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে মাঠে নামা এই গোলরক্ষক নাচানাচি করছিলেন গোললাইনে দাঁড়িয়ে। উদ্দেশ্য ছিল স্পট-কিক নেওয়ার সময় পেরুর খেলোয়াড়দের বাড়তি চাপে ফেলা। কাজে লাগে তার কৌশল। সাডেন ডেথে ভালেরার শট ঠেকিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন তিনি। তাতে অস্ট্রেলিয়া মাতে বিশ্বকাপে ওঠার সীমাহীন আনন্দে।

টাইব্রেকারের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না সকারুদের জন্য। প্রথম শটে গোল করতে ব্যর্থ হন মার্টিন বয়েল। তবে পরের পাঁচটিতেই নিশানা ভেদ করে অস্ট্রেলিয়া। বিপরীতে, পেরুর তৃতীয় শটে জাল খুঁজে নিতে ব্যর্থ হন লুইস আদভিনকুলা। এরপর ষষ্ঠ শটে খলনায়ক বনে যান ম্যাচের ১১৬তম মিনিটে বদলি নামা ভালেরা।

দলকে ফুটবলের মহাযজ্ঞে পৌঁছে দিয়ে অবশ্য কোনো কৃতিত্ব দাবি করেননি ৩৩ বছর বয়সী রেডমেইন। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে মাত্র তৃতীয় ম্যাচের পর গণমাধ্যমের কাছে তিনি বলেছেন, 'আমি খুবই ছোট একটি ভূমিকা পালন করেছি। আমি মনে করি না যে আমি একজন নায়ক বা এরকম কিছু। সত্যিকার অর্থেই ভালো একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১২০ মিনিট পার করে সতীর্থরা অসাধারণ কাজ করেছে।'