মেসি-দি মারিয়ার নৈপুণ্যে ভেনেজুয়েলাকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা
কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা উপহার দিল আরেকটি নজরকাড়া পারফরম্যান্স। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে ভেনেজুয়েলাকে উড়িয়ে দিল তারা। করোনাভাইরাসের ধকল কাটাতে আলবিসেলেস্তেদের আগের দুই ম্যাচে না খেলা লিওনেল মেসি ফেরা রাঙালেন গোল দিয়ে। তার লক্ষ্যভেদে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজেও নিশানা ভেদ করলেন শেষদিকে বদলি নামা আনহেল দি মারিয়া।
শনিবার দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ের ম্যাচে দাপট দেখিয়ে ৩-০ গোলে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ঘরের মাঠে বুয়েন্স এইরেসের লা বোম্বোনেরায় প্রথমার্ধে তারা এগিয়ে যায় নিকোলাস গঞ্জালেজের গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান দি মারিয়া ও মেসি। দুটি অ্যাসিস্ট করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রদ্রিগো দে পল।
৭৩ শতাংশ সময়ে বল পায়ে রাখা আর্জেন্টিনা গোলমুখে শট নেয় ১৬টি। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ছয়টি। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার তিনটি শটের কেবল একটি লক্ষ্যে। তাই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানিকে বেশ অলস সময় পার করতে হয়।
চোট, নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কারণে দশ পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। কলম্বিয়ার বিপক্ষে তাদের সবশেষ ম্যাচের একাদশে থাকা সেন্টার-ব্যাক জার্মান পেজ্জেয়া কেবল জায়গা ধরে রাখেন। আক্রমণভাগে দলটির অধিনায়ক মেসির সঙ্গী হন নিকোলাস ও কোরেয়া।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে প্রথমবার প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নেয় আর্জেন্টিনা। লেয়ান্দ্রো পারেদেসের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে গোলের প্রচেষ্টা চালান মেসি। আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন ভেনেজুয়েলা গোলরক্ষক উইলকার ফারিনেজ। মেসির বাঁকানো শট লুফে নিতে তাই বেগ পেতে হয়নি তাকে।
দুই মিনিট পর মেসির ফ্রি-কিকে কোরেয়ার হেড থাকেনি লক্ষ্যে। এরপর অনেকটা সময় বলার মতো কোনো আক্রমণ গড়তে পারেনি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, রক্ষণ জমাট রেখে খেলা ভেনেজুয়েলা নাগালই পাচ্ছিল না বলের। ফলে তাদের পক্ষেও সম্ভব হয়নি গোলের সুযোগ তৈরি করা।
২৪তম মিনিটে মেসির আরেকটি শট সহজেই রক্ষা করেন ফারিনেজ। ছয় মিনিট পর ফের হতাশ হতে হয় মেসিকে। বাঁ পায়ে কারিকুরি দেখিয়ে ডি-বক্সের ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। শটও নিয়েছিলেন দুই দফা। তবে ভেনেজুয়েলার ডিফেন্ডাররা ছিলেন তৎপর। তারা দুটি শটই প্রতিহত করার পর বল পেয়ে যান মার্কোস আকুনিয়া। তার লক্ষ্যভ্রষ্ট শট খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। তিন মিনিট পর কোরেরার কোণাকুণি শট পা দিয়ে ঠেকান ফারিনেজ।
চাপ ক্রমেই বাড়ানোর সুফল আর্জেন্টিনা পায় ৩৫তম মিনিটে। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাদেরকে এগিয়ে দেন নিকোলাস। ডান প্রান্তে ফাঁকায় বল পেয়ে যান অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ মিডফিল্ডার দে পল। তিনি নিচু ক্রস ফেলেন ছয় গজের বক্সের ভেতরে। স্লাইড করে তাতে পা ছুঁইয়ে ভেনেজুয়েলার প্রতিরোধ ভেঙে দেন ফিওরেন্তিনা উইঙ্গার নিকোলাস।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ভেনেজুয়েলাকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন জোসেফ মার্তিনেজ। ক্রিস্তিয়ান কাসারেসের ক্রসে ফাঁকায় থেকে হেড করলেও বল লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। সাত মিনিট পর বাজে ফিনিশিংয়ের আক্ষেপে পুড়তে হয় আর্জেন্টিনাকেও। নাহুয়েল মলিনা ডি-বক্সের ভেতরে খুঁজে নিয়েছিলেন আলেক্সিস মাক আলিস্তারকে। আশেপাশে প্রতিপক্ষের কেউ না থাকায় দেখেশুনে শট নেওয়ার সময় ছিল তার। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।
৭০তম মিনিটে বদলি নেমে খেলার চিত্র পাল্টে দেন পিএসজি উইঙ্গার দি মারিয়া। তার উপস্থিতিতে দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা। নয় মিনিটের মধ্যে গোলও পেয়ে যান তিনি। দে পল লম্বা করে রক্ষণচেরা পাস বাড়ান মাঝমাঠে থাকা দি মারিয়ার উদ্দেশ্যে। দারুণভাবে তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি পৌঁছে যান ডি-বক্সের কাছে। এরপর ফারিনেজের মাথার ওপর দিয়ে দর্শনীয় চিপে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
তিন মিনিট পর ক্লাব সতীর্থ মেসির ৮১তম আন্তর্জাতিক গোলে অবদান রাখেন দি মারিয়া। গোলমুখে তার বুদ্ধিদীপ্ত ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে ডান পায়ে শট নেন মেসি। সংযোগ ঠিকঠাক না হলেও সফরকারী গোলরক্ষক আগেই উল্টো দিকে সরে গিয়েছিলেন। বল জালে পৌঁছাতেই যেন কেঁপে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম!
এই জয়ে ১৬ ম্যাচে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াল ৩৮। তারা আছে বাছাইয়ের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে শীর্ষে। দুই দলই ইতোমধ্যে কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে। আগেই ছিটকে যাওয়া ভেনেজুয়েলা আছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দশ দলের বাছাইপর্বের তলানিতে। ১৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট কেবল ১০।