যে নিয়মে লেভানদভস্কিকে কম মূল্যে দলে নিতে পারে বার্সেলোনা
জার্মান বুন্দেসলিগার চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে আর খেলার ইচ্ছা নেই রবার্ত লেভানদভস্কির। এই পোলিশ তারকা স্ট্রাইকার ইতোমধ্যে সেটা জানিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট করে। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার ক্লাবটি ছেড়ে তার বার্সেলোনায় যাওয়ার গুঞ্জন চড়া। বায়ার্নও লেভানদভস্কির মনের কথা বুঝতে পেরে তার দলবদলের মূল্য নির্ধারণ করেছে। তবে ফিফার একটি নিয়মের অধীনে বাভারিয়ানদের চাহিদার চেয়ে কম খরচে তাকে দলে নেওয়ার পথ খোলা রয়েছে বার্সার সামনে।
৩৩ বছর বয়সী লেভির সঙ্গে বায়ার্নের চুক্তি রয়েছে আগামী বছর পর্যন্ত। তবে তিনি যে চুক্তির মেয়াদ পূরণ করছেন না তা প্রায় নিশ্চিত। এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই তিনি পাড়ি জমাতে চান নতুন ঠিকানায়। উয়েফা নেশন্স লিগে খেলতে বর্তমানে জাতীয় দলের সঙ্গে অবস্থান করছেন লেভানদভস্কি। সেখান থেকেই কয়েক দিন আগে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বায়ার্নে তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে।
সময়ের অন্যতম সেরা গোলস্কোরার লেভানদভস্কিকে বোঝাতে কম চেষ্টা করেনি বায়ার্ন। কিন্তু তাদের সব প্রয়াস এখন পর্যন্ত ব্যর্থ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সেকারণে ক্লাবটি তার জন্য দাবি করছে ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ড। লেভানদভস্কির তারকাখ্যাতির বিচারে অর্থের এই অঙ্ক বেশ কম। তবে যেহেতু তিনি বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো জার্মান ক্লাবে যাচ্ছেন না, তাই ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ড পেলেই খুশি তারা। অন্যদিকে, স্প্যানিশ লা লিগার পরাশক্তি বার্সেলোনা লেভানদভস্কির জন্য খরচ করতে চায় ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড। যা বায়ার্নের প্রত্যাশার চেয়ে বেশ কম।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম স্পোর্ত অবশ্য শুক্রবার তাদের একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে লেভানদভস্কি বায়ার্নের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আর তেমন কিছু ঘটা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকা বার্সার জন্য হবে চরম আনন্দের সংবাদ। কারণ, মাত্র ২০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়েই লেভিকে ন্যু ক্যাম্পে টানতে পারবে তারা।
ফিফার নিয়মকানুনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ফুটবলার যদি ২৮ বছর বয়সের আগে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করেন, তাহলে ওই চুক্তির তিন বছর পর সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তিনি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। এই নিয়মকে বলা হয়, 'ওয়েবস্টার রুলিং'। কারণ, সাবেক স্কটিশ ফুটবলার অ্যান্ডি ওয়েবস্টার প্রথমবারের মতো দলবদলের এমন নজির স্থাপন করেছিলেন। ২০০৬ সালে স্বদেশি ক্লাব হার্টস থেকে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন ইংলিশ ক্লাব উইগান অ্যাথলেটিকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লেভানদভস্কি 'ওয়েবস্টার রুলিং' সুবিধাটি নেওয়ার যোগ্য। চুক্তির ইতি টানতে চাইলে তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড। এটা বায়ার্নের সঙ্গে তার চুক্তির শেষ বছরের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ। ফলে বেশ বিপাকে পড়েছে তারা। বায়ার্নের শঙ্কা, বার্সার ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব না মানলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন লেভানদভস্কি। তাছাড়া, আগামী বছর স্বাভাবিকভাবে চুক্তি শেষ হয়ে গেলে বিনা ট্রান্সফার ফিতে অন্য ক্লাবে যেতে পারবেন লেভি। সেক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বায়ার্ন।