সেমিতে উঠে ইংলিশ ক্লাবগুলোকে খোঁচা দিলেন রিয়াল কোচ
রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরের শিরোপার দৌড়ে আরেক ধাপ এগোনোর পর উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি বিরক্তিও গোপন করেননি কার্লো আনচেলত্তি। লস ব্লাঙ্কোসদের কোচ কথার খোঁচা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোকে।
আনচেলত্তির চাঁছাছোলা বক্তব্যের কারণটা কী? শোনা যাক তার মুখেই, 'সেমিফাইনালে খেলাটা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য অভ্যাসের মতো। তবে এবার আমরা গর্বিতও বটে। কারণ সবাই বলছিল যে ইংলিশ ফুটবল নাকি স্প্যানিশ ফুটবলের চেয়ে এগিয়ে!'
এটুকু বলেই থামেননি তিনি, 'এখন পর্যন্ত স্পেনের দুটি ক্লাব সেমিতে পৌঁছেছে (ভিয়ারিয়াল ছিটকে দিয়েছে শক্তিশালী বায়ার্ন মিউনিখকে)। সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ হিসেবে বলছি না, আমি আসলেই ভিয়ারিয়াল ও তাদের কোচ উনাই এমেরির জন্য খুশি। একটি অসাধারণ দল, একজন অসাধারণ কোচ। আগামীকাল (বুধবার) স্পেনের আরও একটি দল সেমিতে উঠতে পারে, তারা হলো অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।'
মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইংলিশ ক্লাব চেলসিকে বিদায় করে দিয়েছে রিয়াল। রোমাঞ্চে ভরা ফিরতি লেগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত আসরের শিরোপাজয়ী ব্লুজরা ৩-২ ব্যবধানে জিতেও শেষরক্ষা করতে পারেনি। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ৩-১ গোলে হারের খেসারত দিতে হয় তাদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ চারে উঠেছে রিয়াল।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটের মধ্যে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সফরকারী চেলসি। দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান তাদের পক্ষে ৪-৩ থাকায়, সেমির সুবাস পাচ্ছিল তারা। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল। ৭৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যে গোল করেন রদ্রিগো। তাতে পুরোপুরি পাল্টে যায় সমীকরণ। নির্ধারিত সময়ে স্কোরলাইন ৩-১ থাকলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আবারও স্বাগতিকদের ত্রাতা হয়ে আসেন করিম বেনজেমা। ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে তার অসাধারণ হেডই গড়ে দেয় ব্যবধান।
আনচেলত্তির মতে, দেয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া অবস্থাতেও রিয়াল ভেঙে পড়েনি বলেই প্রত্যাবর্তনের স্মরণীয় গল্প লিখতে পেরেছে, 'এই ক্লাব কখনও হাল ছেড়ে দেয় না। সেকারণে আমরা পুরস্কৃত হয়েছি এবং সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছি।'
শুরু থেকে মরিয়া ফুটবল খেলে রিয়ালকে কোণঠাসা করে রেখেছিল চেলসি। রদ্রিগোর গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। কিন্তু সেসব কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। বেনজেমার লক্ষ্যভেদের পরও অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিল চেলসি। কিন্তু কাই হাভার্টজ-হাকিম জিয়েশরা পারেননি নিশানা ভেদ করতে।
লুকা মদ্রিচের চোখ ধাঁধানো রক্ষণচেরা পাসে রদ্রিগোর সফল ভলি চেলসিকে হতবুদ্ধি করে দিয়েছিল বলে মনে করছেন আনচেলত্তি, 'সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর পরিবেশ আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। আমার মতে, আমাদের প্রথম গোলটি ওদেরকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।'