অসুস্থ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ‘অনুপস্থিত’ বিবেচিত হবে না
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা দেহে কোনো ধরনের উপসর্গের কারণে যদি শিক্ষার্থীরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্লাসে যোগদান করতে না পারে, তাহলে (যথোপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে) তাদেরকে 'অনুপস্থিত' হিসেবে গণ্য করা হবে না।
অনেক অভিভাবক এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
তারা জানান, স্কুল ও কলেজে পর্যায়ক্রমে সশরীরে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচক মনে করছেন। তবে এখনও কিছু বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন, যেমন: করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার এখনও ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে আছে।
মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইন্সটিটিউটের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জামাল সরকার বলেন, 'স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যাম্পাস থেকেও সংক্রমণের সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে যদি স্বাস্থ্যবিধিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা না হয়।'
তিনি জানান, সাধারণত স্কুলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময়ের জন্য মাস্ক পরতে চায় না। শিক্ষার্থীদের অনেক দিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হবে এবং তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করবে ও আড্ডা দেবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, 'যদি কোনো শিক্ষার্থী তার পরিবারের কোনো সদস্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ক্লাসে আসতে না পারে, সেক্ষেত্রে তাকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।'
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কিন্তু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এ ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের সদস্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ জমা দিতে হবে।'
করোনাভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্টকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান সচিব।
সরকার ৫ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পর্যায়ে স্কুলে সশরীরে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত জানায়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল ও কলেজ খোলার পর উচ্চ মাধ্যমিক, ২০২১ ও ২০২২ সালের মাধ্যমিক এবং এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসিই) শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে।
প্রথম থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন করে সশরীরে ক্লাস করবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে গতকাল একটি স্বাস্থ্য নির্দেশনার সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) পাঠিয়েছে। স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার পর এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।
এই নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকা এবং শ্রেণীকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া, কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা অথবা কর্মীর করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়াও, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে বা আইসোলেশনে থাকতে পারবে এবং তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে না।
নির্দেশনায় শিক্ষকদের অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতিটি ক্লাসের শুরুতে একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য। কোনো ছাত্র যেন ক্লাসের মাঝখানে বের হয়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
এসওপি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে- তারা যেন যেকোনো ধরনের অসুস্থতার কথা শিগগির অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানায়। কোনো জরুরি কারণ ছাড়া শ্রেণীকক্ষের বাইরে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এসওপি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেন তারা শিগগির এই তথ্যটি প্রধান শিক্ষককে জানান। একইসঙ্গে, শিশুদের বাইরের খাবার খেতে নিরুৎসাহিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে এসওপিতে।
৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় স্কুল খোলার সরকারি পরিকল্পনা ঘোষণা করার সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, সরকার স্কুল খোলার পর সার্বিক করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কিনা সেটার ওপর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গত বছরের ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায় এবং প্রায় দেড় লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এ বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে এবং ২৪ জুলাই আগের সব রেকর্ড ভেঙে সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশে পৌঁছায়।
আগস্ট মাসের শুরু থেকে সংক্রমণের হার কমছে এবং গতকাল তা ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমেছে।
প্রতিবেদনটি অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান