অধ্যক্ষ ও ছাত্রলীগের বাধায় আজিজুল হক কলেজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, বগুড়া

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক চতুর্থ বর্ষসহ বিভিন্ন বর্ষের চলমান এবং রুটিন পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে সেই মানববন্ধনে কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্যরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে শেষপর্যন্ত মানববন্ধন করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত করে।

আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন শুরু হলে অধ্যক্ষ শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে শিক্ষকরা ব্যানার কেড়ে নেন। পরে ব্যানার ফেরত দিলেও ছাত্রলীগ সদস্যরা এসে সেই মানববন্ধন বন্ধ করে দেন।

bogra.jpg
ছাত্রলীগ সদস্যরা এসে মানববন্ধন বন্ধ করে দেন। ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নিয়তি রহমান নিতু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলমান ছিল। হঠাৎ করে পরীক্ষা স্থগিতের কারণে ৩টি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষাজীবন কবে শেষ হবে তা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। প্রায় প্রতিটি বিভাগের পরীক্ষার রুটিন দেওয়া ছিল। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করে কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে এই বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে একটি স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অধ্যক্ষ এসে আমাদের ব্যানার কেড়ে নেন এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসে বাধাসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন। এতে ভয় পেয়ে অনেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে আমরা আর মানববন্ধন করতে পারিনি।'

এ বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল বারী রিয়াল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে বাধা দেইনি। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করছিল, কিন্তু এর বাইরে বিভিন্ন ছাত্র সংঘটন, যেমন: ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্র শিবিরের ছেলেরা এসে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরির চেষ্টা করছিল। সেই কারণে আমরা গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি। পরে তারা চলে যায়। খারাপ কোনো কিছু সেখানে হয়নি।'

অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী ব্যানার কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি ব্যানার কেড়ে নেইনি। ওই শিক্ষার্থীরাই পরে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে চলে গেছে।'

'ছাত্রলীগ ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধমকি দিয়েছেন' এমন অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, 'না, না, কোনোক্রমেই না। বিষয়টি ভিত্তিহীন। আমি এখন গাড়ির মধ্যে আছি, পরে কথা বলি।'