আরও সময় চান ফারহানা বাতেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এ সপ্তাহেই
সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার এখনও অবসান হয়নি। ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ২ দফা সময় দেওয়া হলেও হাজির না হয়ে আরও সময় চাইছেন তিনি। তবে, এ সপ্তাহেই প্রতিবেদন জমা দেবে তদন্ত কমিটি।
অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা বাতেনের শাস্তির দাবিতে এখনও অনড় শিক্ষার্থীরা। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ২ দফা সময় দেওয়া হলেও তিনি হাজির না হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন। এ ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন তুহিন (২৫)। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন।
এ ঘটনায় রবীন্দ্র স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তদন্ত কমিটির কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় ৩ অক্টোবরের মধ্যে তিনি হাজির হননি। তিনি শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ রয়েছেন বলে দাবি করে ২ সপ্তাহের সময় চেয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'মানবিক কারণে আবারও তাকে সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত ৭ অক্টোবরের মধ্যে তিনি হাজির হননি বা কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করেননি। ওই দিন রাতে একটি ইমেইলে তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করে একজন নিউরো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র পাঠিয়েছেন এবং আবারও ২ সপ্তাহের সময় চেয়েছেন।'
ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের অসহযোগিতার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় এ সপ্তাহেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে বলে জানান তদন্ত কমিটির প্রধান।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান পাপন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী শিক্ষকের শাস্তির আশায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।'