কুয়েট শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তদন্ত কমিটি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া জানান, কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আলহাজ উদ্দিন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মাহবুব, খুলনা জেলা প্রশাসক এবং খুলনা পুলিশ কমিশনারকে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কমিটির সদস্য ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. কল্যাণ কুমার হালদার।
তবে, অধ্যাপক কল্যাণ লিখিত ভাবে এবং ড. আরিফুল অলিখিত ভাবে তদন্ত করতে অপারগতা জানান।
গত মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে মারা যান কুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন। তিনি কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ছিলেন।
কুয়েটে বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি সরকারি চাকরি পাওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ভাগ হয়ে গেছে কয়েকটি দলে। এর মধ্যে একটি প্রভাবশালী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান।
সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলে ছাত্র আবাসিক হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে।
তারা হল প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দেন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিমকে জেরা করা শুরু করে। পরবর্তীতে তার সঙ্গেই তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে প্রবেশ করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধাঘণ্টা ওই শিক্ষকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
পরবর্তীতে ড. সেলিম দুপুরের খাবার খেতে ক্যাম্পাস নিকটস্থ নিজ বাসায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে, দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ড. সেলিম অত্যন্ত সজ্জন ও মেধাবী শিক্ষক। ছাত্রবান্ধব হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে৷ ২০২০ সালে তিনি অধ্যাপক হন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না।