জাবি শিক্ষক আফসারের মৃত্যু: শোকবার্তায় সন্তানের সংখ্যা নিয়ে ‘ভুল’ সংশোধনে চিঠি

নিজস্ব সংবাদদাতা, জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আফসার আহমেদের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যে শোকবার্তা দিয়েছেন, সেখানে উল্লেখ করা আফসার আহমেদের সন্তানের সংখ্যা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এ শোকবার্তার সংশোধনী চেয়ে গতকাল বুধবার উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছেন অধ্যাপক আফসারের 'সাবেক স্ত্রী'। তিনি জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

চিঠিতে তিনি বলেন, গত ৯ অক্টোবর 'জাবি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আফসার আহমেদের আকস্মিক প্রয়াণে উপাচার্যের শোক' এই মর্মে গণমাধ্যমে পাঠানো শোকবার্তায় অধ্যাপক আফসার আহমেদের এক কন্যার কথা উল্লেখ করা হলেও, একমাত্র পুত্র সন্তানের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠিতে বলা হয়, 'আমার গর্ভে অধ্যাপক আফসার আহমদের ঔরসে এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তাই মৃত্যুকালে অধ্যাপক আফসার আহমেদ বাস্তবে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।'

এতে আরও বলা হয়, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ভুল তথ্য উপস্থাপন গণমানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। অধ্যাপক আফসার আহমেদের পুত্র সন্তানের মা হিসেবে আমার দায়িত্ব এই ভুল সংশোধন করে দেওয়া। সর্বোপরি জাবির মতো প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের ভুল অনভিপ্রেত।'

এ ধরনের ভুল ভবিষ্যতে প্রচার ও প্রকাশ না করে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি।

উপাচার্যের কাছে পাঠানো ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ অফিসে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পাঠানো একটি শোকবার্তায় এ তথ্যটি সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে, জনসংযোগের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া শোকবার্তায় কন্যা কিংবা পুত্র সন্তান এই জাতীয় কোনো লাইনই রাখা হয়নি। আসলে তার পরিবারে দ্বিতীয় স্ত্রী বা সন্তান ছিল কি না, আমার জানা ছিল না।'

বিবৃতির সংশোধনীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি এখনও অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। যদি আমাদের হাতে এ ধরনের চিঠি আসে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করব।'

এ বিষয়ে জানতে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা চিঠি পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এর উত্তর দেওয়া হবে।'

শোকবার্তায় ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে সে বিষয়ে তিনি বলেন, 'আসলে আফসার আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার দ্বিতীয় বিয়ের বা সন্তান থাকার কথা কখনও স্বীকার করেননি। বিষয়টি পারিবারিক আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।

অধ্যাপক আফসার তার সার্ভিস রেকর্ড ও পেনশনের খাতায় কাকে নমিনি করেছে বা পরিবারের সম্পর্কে কী কী তথ্য দিয়েছে, সেটা দেখলেই আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে।'

তিনি আরও বলেন, 'অভিযোগকারী আমাকে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়কে দোষারোপ করছেন বারবার। আইনগতভাবে যদি মা, সন্তান পরিচয় পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা নাই। আমরা চাই এর সম্মানজনক সমাধান হোক।'

উল্লেখ্য অধ্যাপক আফসার আহমেদের স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান থাকার পরও গোপনে তারই এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছিলেন। ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর অধ্যাপক আফসার আহমেদের সঙ্গে উভয়ের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
তিনি অধ্যাপক আফসারের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে জোরপূর্বক প্রথম বাচ্চার গর্ভপাত করানোর অভিযোগ তোলেন।

পরে, দ্বিতীয় বাচ্চার জন্মের ৩ দিন পর আফসার আহমেদ দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিলে, ২০১৮ সালে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে।