ঢাবিতে একই ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে আবারো শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দা সূর্যসেন হলে 'বড় ভাইদের' সঙ্গে কর্মসূচিতে না যাওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। ১ মাস আগেও হলের আরও ২ শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল ছাত্রলীগের ওই কর্মীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার দিবাগত রাতে সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আগের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে হল কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে দ্বিতীয় বার আরেক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অধ্যাপক মকবুল হোসেন।

অভিযুক্ত সিফাত উল্লাহ উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

তবে হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী ইমরান হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সিফাতের বিরুদ্ধে এক মাস আগে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তখন তাকে আমরা ছাত্রলীগের গ্রুপ থেকে বের করে দেই। সে ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই। তার দায় ছাত্রলীগ নেবে না, কারণ সে ছাত্রলীগের কেউ না।'

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে এক নারী শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন সিফাত উল্লাহ। বহিস্কারাদেশ পরে প্রত্যাহার করা হয়।

মারধরের শিকার ফারসি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী পরশ মিয়া নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি সোমবার দিবাগত রাতে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিফাত ভাই আমাকে তার রুমে ডেকে নেয় এবং আমি প্রোগ্রামে যাইনি কেন, তা জানতে চান। পরীক্ষা থাকায় প্রোগ্রামে যেতে পারিনি বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্ষেপে গিয়ে আমার শার্টের কলার চেপে ধরেন এবং কিলগুষি মারতে থাকেন।'

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে সিট না পাওয়ায় তাদের গণরুমে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। ছাত্রলীগের নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে তাদের জোর করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ আছে।

অভিযোগের বিষয়ে সিফাত উল্লাহর বক্তব্য জানতে সোমবার রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত কয়েকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মারধরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনাটি গণমাধ্যমের সূত্রে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে হল কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।'

ঘটনা সম্পর্কে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ অভিযোগের বিষয়ে শুনিনি। প্রোগ্রামে অংশ না নেওয়ার জন্য কেন মারা হবে? এ রকম কাজ কেউ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'