নাটোরের পথে রাবি শিক্ষার্থী হিমেলের মরদেহ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ট্রাকচাপায় নিহত মাহমুদ হাবিব হিমেলের মরদেহ নিয়ে তার নানাবাড়ি নাটোরের পথে রওনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে কাপড়িয়া পট্টি এলাকায় হিমেলকে দাফন করা হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে।

এর আগে আজ সকাল পৌনে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে হিমেলের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। এদিন সকালে নিহত শিক্ষার্থীর মাসহ কয়েকজন স্বজন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। জানাজা শেষে তাদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, ২ উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম ও অধ্যাপক চৌধুরী জাকারিয়া নাটোরের উদ্দেশে রওনা হন।

তার আগে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হিমেলের মরদেহ চারুকলা ভবনের সামনে রাখা হয়।

হিমেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ২১২ নাম্বার রুমে থাকতেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে হবিবুর হলের সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন হিমেল।

এ ঘটনায় আহত হন মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তারই বন্ধু রায়হান রিমেল। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নাম্বার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর প্রতিবাদে দুর্ঘটনাস্থলের পাশে থাকা ৫টি ট্রাকে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এ ছাড়া, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন এবং প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে এ ঘটনায় বিচার দাবিতে প্রতিবাদে নামেন।

পরবর্তীতে রাত ১২টায় উপাচার্য ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে আছে- দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের প্রত্যাহার, ক্যাম্পাসের রাস্তা সংস্কার এবং সব জায়গায় পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মি. লিয়াকত আলীকে অপসারণের মৌখিক সিদ্ধান্ত জানান। এছাড়া বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে রাত ২টায় শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন।

এদিকে আর্থিক সহায়তার অংশ হিমেলের পরিবারের হাতে 'প্রাথমিকভাবে' পাঁচ লাখ টাকা চেক তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ ছাড়া, এই ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর সকল চিকিৎসার ব্যয়ভারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে তিনি জানান।