শাবিপ্রবি

ফুরিয়ে আসছে পানি-তেল, উপাচার্যের বাসভবনে ‘অচলাবস্থা’

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনে পানির সরবরাহ ও জেনারেটরের তেল ফুরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মচারী।

আজ সোমবার দুপুরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসভবনের ওই কর্মচারী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্যারের (উপাচার্য) বাসায় পানি ফুরিয়ে আসছে। যা আছে তা দিয়ে সম্ভবত বিকেল পর্যন্ত চলবে।'

'তবে বাসায় খাবার ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। সন্ধ্যার পর থেকে স্যার পানির সংকটে ভুগতে পারেন', যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, 'গতকাল ছাত্ররা বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু জেনারেটরের তেলও ফুরিয়ে এসেছে। তেল সরবরাহ না পেলে সন্ধ্যার পর থেকে হয়তো আর জেনারেটরও চালানো সম্ভব হবে না।' 

sust-2.jpg
ছবি: শেখ নাসির/স্টার

উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থানরতরা সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন কিনা, জানতে চাইলে ওই কর্মচারী বলেন, 'এখন পর্যন্ত স্যারের বাসার সবাই সুস্থ আছেন। তবে শুনেছি হলে অবরুদ্ধ একজন প্রক্টর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার গায়ে ১০২ ডিগ্রি জ্বর। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে তাকে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয়নি।'

ঘটনাস্থল থেকে ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী শেখ নাসির জানান, উপাচার্যের বাসভবনের গেটে পুলিশ সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। তার পাশেই আছেন আন্দোলনকারীরা। এখন পর্যন্ত কাউকে ওই বাসভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগ চালুর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া, বাহির থেকে কাউকে বাসভবনে ঢুকতেও দিচ্ছেন না আন্দোলনকারীরা।

sust-3.jpg
ছবি: শেখ নাসির/স্টার

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে গত ১১ দিন ধরে উত্তাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনের প্রথম ৬ দিনে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত বুধবার বিকেল ৩টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী। উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রায় সবার শরীরে জ্বর। নেতিয়ে পড়া শরীরে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। এমন শারীরিক অবস্থার মধ্যেও এ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে অনড় তারা। ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আলোচনায় সংকট উত্তরণের আভাস পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা চলার মধ্যেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।