মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অনশনে ঢাবি শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুর্তজা মেডিকেল সেন্টারে উন্নত চিকিৎসা এবং সেন্টারটির আধুনিকায়নের দাবিতে আজ সোমবার তৃতীয় দিনের মতো অনশন পালন করছেন ঢাবি শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন।
আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.গোলাম রব্বানী এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর মহিউদ্দীনের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন৷ তবে মহিউদ্দীন এতে রাজি হননি।
টানা অনশনে অসুস্থবোধ করছেন জানিয়ে মহিউদ্দীন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি এখন অসুস্থবোধ করছি৷ কথা বলতে পারছি না৷ দাবি আদায়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব৷'
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অনশন ভাঙতে ওই শিক্ষার্থীকে অনুরোধ করেছি৷ আমরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত৷ তার কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে৷ বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে আমরা আন্তরিক৷'
গত শনিবার আহত হয়ে মেডিকেল সেন্টারে যাওয়ার পর সেখানকার সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে ফেসবুকে অনশনের ঘোষণা দেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের এই আবাসিক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে তার ৬ দাবি হলো- এন্ট্রি পয়েন্টে ইনফরমেশন ডেস্ক স্থাপন করা; প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক লিফট, র্যাম্প, হুইল চেয়ার ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়া; নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া; অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট বা মেশিন স্থাপন করা; অতি দ্রুত মেডিকেল সেন্টারে পুষ্টিকর খাবার প্রদান ও ক্যান্টিন স্থাপন নিশ্চিত করা; হাই কমোড, হাইলি ডেকোরেটেড স্যানিটেশন সিস্টেমে টয়লেট, বাথরুম তৈরি করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। আজ দুপুরে সেন্টারটিতে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ২২টি বেড আছে সেখানে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেডিকেল সেন্টারটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ পান না তারা ৷ আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় বিভিন্ন পরীক্ষার করানোরও সুযোগ পান না।