যুদ্ধ হচ্ছে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার ফল: ওয়েবিনারে ২ নোবেল বিজয়ী
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২ নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব বলেছেন, যুদ্ধ হচ্ছে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার ফল। তাই যতই শক্তিশালী হোক না কেন, একটি মুষ্টিমেয় জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করতে দেওয়া যাবে না।
গতকাল শুক্রবার 'যুদ্ধ কি অনিবার্য? আমরা কি দৃষ্টান্ত পরিবর্তন করতে পারি না?' শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন নোবেল বিজয়ী জোডি উইলিয়ামস ও রিচার্ড জে রবার্টস।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের আওতাধীন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) ও দৈনিক প্রথম আলো যৌথভাবে এই ওয়েবিনারটি আয়োজন করে।
ওয়েবিনারের প্রধান বক্তা ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী জোডি উইলিয়ামস। তিনি তার বক্তব্যে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের মানবিক দিকগুলো বিশদভাবে তুলে ধরেন। বলেন, 'আমরা যদি এখন মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে দেই, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো বিশ্ব বিপদে পড়বে। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পারস্পরিক ধ্বংস জনগণের মেনে নেওয়া উচিত নয়।'
একইসঙ্গে সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীকে, তা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করতে দিতে পারি না।'
ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ১৯৯৩ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী রিচার্ড জে. রবার্টস জাতিসংঘের অকার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, জাতিসংঘ রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধে সদস্য দেশগুলোকে একত্রিত করতে পারেনি। তিনি এই যুদ্ধে সাহসী ভূমিকার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশংসা করেন বলেন, 'আমাদের তার (জেলেনস্কি) মতো আরও সাহসী নেতা দরকার।'
ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন এনএসইউ'র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ ও উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম।
সমাপনী বক্তব্যে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, 'সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা যুদ্ধ ও সংঘাত এড়িয়ে এই বিশ্বকে একটি ভালো জায়গা করে তুলতে পারি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।'