র্যাগ দেওয়া নিয়ে চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যসেন হলে র্যাগ দেওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় উপাচার্য কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ কমিটি করা হয়।
পাঁচ সদস্যের এই কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আবুল মনছুরকে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. জারিন আক্তার, মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট ড. তড়িৎ কুমার বল, চবি কলেজ পরিদর্শক শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী ও সহকারী প্রক্টর এস এ এম জিয়াউল ইসলাম। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যসেন হলে গতকাল ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ২০ জন আহত হয়।
জানা যায়, সূর্যসেন হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মী ও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদসহ তার দুই সহপাঠীকে দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত র্যাগ দেয়।
বায়েজিদ বলেন, 'আমরা ক্যাম্পাসে নতুন এসেছি। সূর্যসেন হলের কয়েকজন বড় ভাই আমাদেরকে আটকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আমাদের গান গাইতে বাধ্য করেন। মোটা হওয়া নিয়েও বিভিন্ন কটু কথা বলেন। পোশাক খুলে নাচতে বলেন।'
র্যাগ দেওয়ায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের এপিটাফ গ্রুপের কর্মী মেহেদী হাসান শাওন ও তার বন্ধুরা বলেন, 'আমরা তাদেরকে শুধু পরিচিতিমূলক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। পরিবার নিয়ে কথা বলেছি। এইজন্য একটু বেশি সময় লেগেছে। এটাকে তারা র্যাগ মনে করলে শিক্ষকদের জানাতো।'
র্যাগ দেওয়ার ঘটনায় হলের ক্যান্টিনসহ ১৩টি কক্ষ, ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের ৫টি কক্ষ ও দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা।
এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী লুৎফর রহমান রায়হান বলেন, 'হঠাৎ করে অনেক মানুষ এসে ছেলেদের হল, মেয়েদের হল ও ক্যান্টিনে অর্তকিত হামলা করে। দুটি ককটেল, দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আমাদের শিক্ষকদের কক্ষ ও আমাদের ১৪টা কক্ষে ভাঙচুর করা হয়।'
ক্যান্টিনের কর্মচারী জাহিদ বলেন, 'আমি ভাত রান্না করছিলাম। হঠাৎ করে ইট এসে আমার মাথায় লাগে ।'
সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট তড়িৎ কুমার বল বলেন, 'মেয়েদের হলে রাতে সিনিয়র শিক্ষক না থাকলেও হলে তিন জন আবাসিক শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষার্থীদের রুমে ভাঙচুরের পাশাপাশি শিক্ষকদের রুমেও ভাঙচুর করা হয়। প্রায় পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।'
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপউপাচার্য বেণু কুমার দে ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিচারের দাবিতে হলের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা সেখান থেকে চলে যান।
উপউপাচার্য বেণু কুমার দে বলেন, 'আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাঙচুরের এইসব ঘটনা নিন্দনীয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে৷ আমরা ভিডিও দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করছি। শিক্ষার্থীদের যা ক্ষতি হয়েছে তার তালিকা নিয়েছি। শিগগির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।'