সান্ধ্য আইন পরিবর্তনসহ ১০ দাবিতে আন্দোলনে রাবির রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা
সান্ধ্য আইন পরিবর্তন, আবাসিক হলের খাবারের মান বৃদ্ধি, ইন্টারনেটের সুবিধা নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত হলের সামনে অবস্থান করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গেস্ট থাকার অনুমতি, স্নাতকোত্তর পরীক্ষার পরে ন্যুনতম দুই মাস হলে থাকার সুযোগ, হলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টাফদের ভালো আচরণ নিশ্চিত করা, হলের স্বাস্থ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা, মশা মাছি নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং রিডিং রুমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।
রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আখি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের নিকটাত্মীয় কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে এলে তাদেরকে হলের গেটে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, হলে থাকতে দেওয়া হয় না। এমনকি এক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী একাডেমিক কিংবা কোনো প্রয়োজনে অন্য হলে যেতে চাইলেও ঢুকতে দেওয়া হয় না।'
তিনি বলেন, 'হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে সন্ধ্যা ৭টার পর বাইরে যেতে দেওয়া হয়না। যারা এই সময়ের পরে হলে প্রবেশ করে তাদেরকে হাজারো জবাবদিহি করতে হয়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।'
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, 'খাবারের মূল্যের তুলনায় হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনে অত্যন্ত নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। হল কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার অভিযোগ করেও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি।'
এ সময় শিক্ষার্থীদের 'ইন্টারনেট বিল দেই সেবা কই', 'সান্ধ্যকালীন আইন মানি না', 'সমস্যা হলেই গণরুম ছাড়ার হুমকি কেন?, 'মা বোনদের হলে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে', 'ক্যান্টিন ব্যবসা বন্ধ করো করতে হবে' ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নুর ও কয়েকজন সহকারী প্রক্টর সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েকদিন সময় চান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় হল প্রভোস্টকে নিয়ে আলোচনায় বসেন তারা।
আলোচনা শেষে হল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রক্টর বলেন, 'হলের মূল সমস্যাগুলো অতি দ্রুত সমাধান করা হবে।'
রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জয়ন্তী রানী বসাক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রোকেয়া হলের যে সমস্যাগুলা আছে, যেমন খাবারের মান বৃদ্ধি, দাম কমানো, ওয়াইফাই সমস্যা ইত্যাদি দ্রুত সমাধান করা হবে। এছাড়া বাকি কিছু দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের যেগুলাতে প্রশাসনের নির্দিষ্ট আদেশ আছে। সেগুলো সমাধানে তাদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি, শুধুমাত্র রোকেয়া হল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা।'