সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চুল কেটে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের তদন্ত কমিটি।

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে উপস্থিত অন্যান্যদের সাক্ষ্য নিয়ে আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রবীন্দ্র স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সেই দিনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তদন্ত কমিটির হাতে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজে চুল কাটার দৃশ্য দেখা গেছে। এ থেকে শিক্ষার্থীদের চুল কাটার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে।'

তিনি জানান, এ সময় অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। তথ্য প্রমাণসহ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ১৩-১৪ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সোমবার রাতে বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন তুহিন শাহজাদপুর এলাকার একটি ছাত্রাবাসে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। বুধবার থেকে ওই শিক্ষিকার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে অনশন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে প্রশাসনিক ভবন তালা দিয়ে দেয়। এ সময় তারা প্রশাসনিক ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করে।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে দ্য ডেইলি স্টার অনেকবার অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।