২৬ দিন পর উপাচার্য ভবনের বাইরে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত ২৬ দিন ধরে বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর আগমনে উপাচার্য ভবন থেকে বের হন তিনি।
সন্ধ্যায় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে বাসভবন থেকে নিজ কার্যালয়ে যান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এতদিন বাসভবনে থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
গত ১৩ জানুয়ারি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর পর ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যকে আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। সেদিন সন্ধ্যায় উপাচার্যকে মুক্ত করতে পুলিশী হামলায় অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী আহত হন।
সে সময় পুলিশের পাহারায় উপাচার্য তার বাসভবনে ফিরে যান। পরে রাতেই উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশী প্রহরা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
ওই রাতে উপাচার্যের বাসভবনে আয়োজিত সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
১৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম ছাড়া সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধে উপাচার্যের কার্যালয়, প্রশাসনিক ভবনসহ সব কার্যালয়ে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে ১৯ জানুয়ারি উপাচার্য বাসভবনের সামনেই আমরণ অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।
পরে ২৩ জানুয়ারি উপাচার্যের বাসভবনে সর্বসাধারণের প্রবেশ ও বাহির বন্ধ ঘোষণা করে ব্যারিকেড দেয় শিক্ষার্থীরা। সেদিন সন্ধ্যায় উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হয়। তবে পরদিন আবারও বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
২৬ জানুয়ারি অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমীন হকের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন উপাচার্যের বাসভবনসহ প্রশাসনিক ভবন থেকে অবরোধ সরিয়ে নেন শিক্ষার্থীরা।
২৭ জানুয়ারি থেকে অবরোধ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও, বাসভবন ছেড়ে বের হননি উপাচার্য। পুরোটা সময় বাসভবনে থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।