প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারে, ধাপে ধাপে কলেজ ও স্কুল
সরকার করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেই পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে বিবেচনা করছে। এক্ষেত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথমে সশরীরে ক্লাস শুরু হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হয় দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে অথবা শিগগিরই দুই ডোজ টিকা দেওয়া হবে। তাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথমে সশরীরে ক্লাস শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরে ধাপে ধাপে কলেজ ও স্কুল খোলা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনার করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যায়ক্রমে সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।'
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল জানান, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় শোক দিবস অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'যদি সংক্রমণের হার একবারেই কমে যায়, সেক্ষেত্রে হয়তো সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।'
তিনি জানান, আর যদি সংক্রমণ একটা পর্যায়ে চলতে থাকে সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগে খুলে দেওয়া হতে পারে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষক-শিক্ষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের জানিয়েছে যে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত করোনা টিকার জন্য নিবন্ধিত ৩৪ হাজার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মধ্যে ৩০ হাজারকে ইতোমধ্যেই টিকা দেওয়া হয়েছে।
প্রায় এক লাখ ৭৯ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার জনকে প্রথম ডোজ এবং ছয় হাজার শিক্ষার্থী দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।
সব সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং মাধ্যমিক স্তরের তিন লাখ ৬৩ হাজার বেসরকারি স্কুল শিক্ষকদের মধ্যে দুই লাখ ৭৮ হাজারকে টিকার উভয় ডোজ দেওয়া হয়েছে।
দীপু মনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যে কোনো সিদ্ধান্ত করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। কারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের নিরাপত্তা সরকারের অগ্রাধিকারে আছে।
দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর প্রায় ১৭ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি এই বন্ধ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। যার ফলে পরীক্ষাগুলো বাতিল হয়েছে এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার আর মেনে চলা হচ্ছে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তের পর, সরকার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে। পরে, সব স্কুলকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে বলা হয়।
শহরাঞ্চলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেখার সুযোগ আছে। কিন্তু, ডিভাইসের অভাব ও ইন্টারনেটের দুর্বল গতির কারণে ডিজিটাল সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অসুবিধা হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
গত বছরের শেষের দিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া শুরু করতে বলে।
দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধের কারণে শিক্ষার যেন ক্ষতি না হয়, সেজন্য এই সব অন্তর্বর্তীকালীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
দীপু মনি গতকাল জানান, গত বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার বেশ কমে গিয়েছিল এবং এই বছর সরকার নভেম্বর মাসে এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সরকার স্কুল পুনরায় খোলার জন্য কাজ করছে। তবে, সবকিছু সংক্রমণের হারের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, 'আমরা আগস্টের শেষের দিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব এবং কোভিড-১৯ সম্পর্কিত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে পরামর্শের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'স্কুল খোলার আগেই সরকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টিকা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।'
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, পর্যায়ক্রমে স্কুল খোলা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা করেছে এবং সপ্তাহে দুই দিন তাদের ক্লাস অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন স্কুলে যেতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানান তারা।
দীপু মনি গতকাল জানান যে, স্কুল পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু হবে এবং সব শিক্ষার্থীদের ছয় দিন ক্লাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্লাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার ৩০ মার্চ পর্যায়ক্রমে সব স্কুল ও কলেজ পুনরায় খোলার ঘোষণা দেন। নতুন করে করোনা সংক্রমণের হার ও মৃত্যু বাড়ার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা ২৩ মে পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়।
সংক্রমণের হার আবার বেড়ে যাওয়ায় সরকার আবারও স্কুল খোলার পরিকল্পনা স্থগিত করে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন সুমন আলী।