ঈদযাত্রা ও বৃষ্টিতে বাড়ছে ডেঙ্গু উদ্বেগ
ঢাকায় ইতোমধ্যেই বৃষ্টি হয়েছে এবং আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একইসঙ্গে ঈদুল ফিতরের সাতদিনের ছুটিতে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। ফলে, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সামনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কীটতত্ত্ববিদরা আশঙ্কা করছেন, ফাঁকা বাসা ও শহরের নানা জায়গায় জমে থাকা পানির উৎসগুলো এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতি ২২ মার্চ পর্যন্ত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার ডিম দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে এবং ডেঙ্গু ভাইরাস এখনও বিদ্যমান থাকায় বৃষ্টির পানি নতুন প্রজননস্থল তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে এডিস মশা বিস্তারের ঝুঁকি বাড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
ঢাকা ছাড়ার আগে বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।
তিনি বলেন, ‘পানি জমতে পারে এমন সব জায়গা খালি করতে হবে। এমন কোনো পাত্র ফেলে রাখা যাবে না যেখানে বৃষ্টির পানি জমতে পারে। তা না হলে সেগুলো এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাসার ভেতরে ও আশপাশে ড্রেন, টয়লেট এবং অন্যান্য যেসব জায়গায় পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে। গাছ বা ফুলের টবগুলোর ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে, যেন সেখানে জমে থাকা পানি মশার প্রজননস্থলে পরিণত না হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মশার বংশবিস্তার রোধে নোভালিউরনের মতো ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর (আইজিআর), বিটিআই (ব্যাসিলাস থুরিঞ্জিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস) বা পাইরিপ্রক্সিফেনের মতো মাইক্রোবিয়াল কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঈদের পর বাড়ি থেকে ঢাকা ফিরে দরজা-জানালা খুলে ভেতরে জমে থাকা মশা বের করে দিতে এবং টয়লেটের কমোডে লার্ভা থাকতে পারে বলে সেগুলো ফ্লাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অধ্যাপক কবিরুল বলেন, ‘বালতি ও অন্যান্য পাত্র উল্টে রাখতে হবে, যাতে পানি জমতে না পারে। পাইপ লিকেজ বা গাড়ি ধোয়ার কারণে বেসমেন্টে জমে থাকা পানি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব জায়গায় ব্লিচিং পাউডার বা লবণ ছিটিয়ে দিলে মশার বংশবিস্তার কমানো যায়।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ছুটির সময়ে যদি মশার বংশবিস্তার হয়, তাহলে বাসিন্দারা ঢাকায় ফিরতে ফিরতে সেগুলো পূর্ণবয়স্ক হয়ে যাবে। বিশেষ করে ঈদের সময় বৃষ্টি হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়বে।’
কীটতত্ত্ববিদ জিএম সাইফুর রহমান আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব বিটিআই কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত। সামান্য বৃষ্টিতেও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। আগেভাগে বিটিআই প্রয়োগ করলে মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব।’
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।
১৭ মার্চ দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঈদের দিন ছাড়া পুরো ছুটিতেই মশকনিধন কার্যক্রম চলবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, ছুটির সময় নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশকনিধন কার্যক্রম চলমান থাকবে।