বন্যার কারণে রাজবাড়ীর ৩৩ বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু নিয়ে সংশয়

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রাজবাড়ীর ৩৩টি বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জেলার ২৪টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বন্যার পানি এখনও নামেনি। এ ছাড়া, বন্যার্তদের জন্যে আরও নয়টি বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ কারণে সেসব বিদ্যালয়ে ঘোষিত সময়ে ক্লাস শুরু অনিশ্চিত।

rajbari_school_2.jpg
চর মৌকুড়া, রাজবাড়ী সদর। ছবি: স্টার

তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ক্লাস শুরুর সব প্রস্তুতির কথা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, জেলায় ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি রয়েছে। বন্যাকবলিত ৬৭টি গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র বাহন নৌকা।

রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র ডেইলি স্টারকে জানিয়েছে, জেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪১৯টি। এর মধ্যে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় চারটি, পাংশায় তিনটি, কালুখালীতে পাঁচটি ও গোয়ালন্দে নয়টি।

rajbari_school_3_0.jpg
রাজবাড়ী সদরের সোনাকান্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: স্টার

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র ডেইলি স্টারকে জানিয়েছে, জেলায় ১৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৩টি মাদ্রাসা ও ১০টি কারিগরি বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটিতে বন্যার পানি উঠেছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার কারণে জেলার নয়টি স্কুলে পাঠদান নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালন্দে ছয়টি এবং রাজবাড়ী সদর, কালুখালী ও পাংশায় একটি করে বিদ্যালয় রয়েছে।

সদর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামের হাশেম শেখ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার দুই শিশুকে স্কুলে পাঠাতে সমস্যা হবে। কেননা, তাদেরকে দুই-তিন কিলোমিটার নৌকায় করে দিয়ে আসতে হবে।'

রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোপালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬৫ জন। দীর্ঘদিন পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস হওয়ার কথা। আমরা ক্লাস শুরুর ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। কিন্তু বন্যার পানির কারণে সংশয় থেকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলবেন সে মোতাবেকই আমরা কাজ করবো।'

এ পরিস্থিতির মধ্যেই বিদ্যালয়ের আশপাশ ও শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

একই উপজেলার কাঠুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কুমার দাশ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। তবে পানি কমতে শুরু করায় আশা করছি নির্ধারিত দিন থেকে ক্লাস শুরু করতে পারবো। আমাদের শ্রেণিকক্ষ দ্বিতীয় তলায়। নিচতলায় শুধুমাত্র প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস হয়। এই শ্রেণির পাঠদান শুরুর নির্দেশনা এখনো আসেনি।'

রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমীন কারিমী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জেলার ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি পানি নেমে যায় তাহলে ক্লাস শুরু হবে। নয়তো বিকল্প চিন্তা করতে হবে। ইতোমধ্যে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে।'

রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আগাম সতকর্তা হিসেবে বন্যার্তদের জন্যে নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত আছে। যদি বন্যার্তরা আশ্রয় নেন তাহলে সেখানে ক্লাস শুরু করতে কিছুটা দেরি হতে পারে। এ ছাড়া আমরা সব দিক থেকে প্রস্তুত আছি।'

রাজবাড়ীর পানিবন্দি ৬৫ গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফাওমি মো. সায়েম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যেহেতু ঐ সব গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুলের আসার একমাত্র বাহন নৌকা সেহেতু আমরা সেসব এলাকার চেয়ারম্যানদের বলবো শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসার জন্যে নৌকার ব্যবস্থা করতে।'