বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর বিভাগের ২০২টি বিদ্যালয়, চলছে ধোয়া-মোছার কাজ

By নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনাজপুর

কয়েক দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার ২০২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর ঘোষণা দেওয়ায় এখন সেগুলো ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গাইবান্ধায় আছে ১০২টি, কুড়িগ্রামে ৮৬টি, রংপুরে একটি, লালমনিরহাটে তিনটি ও নীলফামারীতে ১০টি। 

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের নয় হাজার ৫৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন শিক্ষাবিভাগ।

তবে, শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বিদ্যালয় খোলার আগেই বিদ্যালয়গুলো মেরামত করা হবে। কোনো বিদ্যালয়েই বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এ ছাড়া, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনেও কাজ চলছে।
 
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বন্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। কোনো বিদ্যালয়ের মাটি সরে গেছে, আবার কোনোটির প্লাস্টার খুলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এলজিইডির মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিনেই শিক্ষাথীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে উপস্থিত হওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।'

করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণায় উল্লসিত শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বেশি উল্লসিত। ওইসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নতুন পোশাক ও ব্যাগ কিনে দিয়েছেন। এখন শুধু বিদ্যালয় খোলারা অপেক্ষা তাদের। 

রংপুর শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রিদিকা। প্রায় দেড় বছর পর স্কুল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে খুবই আনন্দিত।

শহরের কামাল কাছনা এলাকার অভিভাবক রফিকুল ইসলাম তার মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে কিনে দিয়েছেন নতুন পোশাক।  

রংপুরের ইন্টারন্যাশনাল গ্রামার স্কুলের অধ্যক্ষ ইয়াসীন নূর হোসেন বলেন, 'স্বাস্থ্য বিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সব প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করেছি।'