মহামারি শুরুর পর প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় বসলো শিক্ষার্থীরা

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট

করোনা মহামারির কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৯ মাস পর সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় বসেছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ২৩ নভেম্বর।

আজ রোববার সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মধ্যেই পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হয় পরীক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও পরীক্ষার্থীদের হাতে স্যানিটাইজার প্রয়োগ করে তাদের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়।

সকাল থেকেই মতিঝিল আইডিয়ালসহ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখেন দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী প্রবীর দাশ। তিনি জানান, করোনা মহামারির সব নিয়ম মেনেই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। তাদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রগুলোর সামনে অভিভাবকদের জটলা দেখা গেছে। পরীক্ষার্থীরা সামাজিক দূরত্ব মানলেও অভিভাবকরা কোনো বিধিনিষেধ মানছেন না।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি মতিঝিলের একটি কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, 'কেউ যদি এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

কোভিডের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা হচ্ছে তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এইচএসসি পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে ।'

২০২১ সালের সংশোধিত ও পুর্নবিন্যাসকৃত সিলেবাসে গ্রুপভিত্তিক ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হবে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর অনলাইনে বোর্ডে পাঠাবে।

প্রতিটি পরীক্ষার সময়কাল দেড় ঘণ্টা হবে এবং এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় করোনার স্বাস্থ্য নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

গত ২৭ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেছেন, ৮-২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২২ লাখ ২৭ হাজা ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন। এর মধ্যে ১১.৯৮ লাখ ছাত্রী এবং ১০.২৮ লাখ ছাত্র।

দীপু মনি বলেছেন, যদি কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।