নীলসাগর লাইনচ্যুত

২২ ঘণ্টা পর সচল রেল যোগাযোগ

মোস্তফা সবুজ
মোস্তফা সবুজ

বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার বাগবাড়ীয়া এলাকায় ঢাকা থেকে চিলাহাটীগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে চিলাহাটী থেকে ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ে বগুড়ার সিনিয়র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আফজাল হোসেন। 

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, রেললাইন মেরামত করা হয়েছে। এখন থেকে এই লাইনে রেল চলাচল স্বাভাবিক হলো। তবে এই দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় ট্রেন ঘন্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলতে পারবে না বলে জানান এই প্রকৌশলী।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর থেকে ঢাকা ও খুলনা থেকে উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলাগামী ট্রেন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) জেনারেল ম্যানেজার ফরিদ আহমেদ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় ৯টি বগি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। 

দুর্ঘটনার ফলে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলো ২২ ঘণ্টার শিডিউল বিপর্যয় পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ ১৯ মার্চ ও আগামীকাল ২০ মার্চের বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের জন্য রেলভবনে আবেদন করা হয়েছিল। তবে এখনো সেগুলো অনুমোদন করা হয়নি।

দুর্ঘটনা কবলিত লাইনটি দিয়ে রূপসা, সীমান্ত, নীলসাগর, বরেন্দ্র, দ্রুতযান, একতা, চিলাহাটী এক্সপ্রেস নামের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো ঢাকা, খুলনা ও উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার থেকে যাওয়া-আসা করে।

ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে জিএম ফরিদ আহমেদ বলেন, ট্রেন বাতিল হলে যাত্রীদের টিকিটের টাকা রিফান্ড করা হবে। 

এদিকে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কর্তৃপক্ষ ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নেমে মালামাল নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পার হয়ে ওপাশে থাকা অন্য ট্রেনে উঠতে হচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রী বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য চরম বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্টেশন মাস্টার ও লোকোমাস্টারদের (চালক) দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সান্তাহার স্টেশনের একজন সহকারী স্টেশন মাস্টারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া নীলসাগর ট্রেনের দুই লোকোমাস্টারকেও বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সকাল থেকে লাইনে মেরামতের কাজ চলায় নির্ধারিত স্থানে ‘ব্যানার ফ্ল্যাগ’ (সতর্ক সংকেত) দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়েছিল কি না অথবা লোকমাস্টাররা লাল বাজনার ফ্ল্যাগ এড়িয়ে গিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নওগাঁ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবু যার গাফ্ফার জানান, দুর্ঘটনায় ৬৬ জনের বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আ. ন. ম. বজলুর রশিদ।