সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি ১২৫ স্কুলে ক্লাস শুরু নিয়ে সংশয়

By আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু, পাবনা

করোনা মহামারির কারণে প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আগামীকাল রোববার সারাদেশে স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস শুরু হচ্ছে।

যখন দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দীর্ঘ বিরতির পর স্কুলে ফেরার আনন্দে ভাসছে, তখন অনিশ্চয়তায় আছে সিরাজগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকার ১২৫টি স্কুলের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ১২৫টি স্কুলে এখনো কম-বেশি জলাবদ্ধতা আছে। তবে জলাবদ্ধতা থাকলেও সময়মত ক্লাস শুরু করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

pabna_2.jpg
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামে স্কুলটি পানিবন্দি আছে। ছবি: স্টার

সিরাজগঞ্জ জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এমরান খন্দকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জেলার ১ হাজার ৬৭১ টি প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকার ১০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো জলাবদ্ধতা আছে।'

তিনি বলেন, 'পানিবন্দি স্কুলগুলোর শিক্ষকদের পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুলে ক্লাস করা না গেলে অন্য কোথাও উঁচু জায়গায় ক্লাস নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'স্কুল খোলার প্রথম দিন থেকেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করার জন্য ইতোমধ্যে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা কবলিত সোনাতনী প্রাথমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বেশিরভাগ স্কুল থেকে পানি নেমে গেছে। তবে চলাচলের পথ ও আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসা নিয়ে সংশয় আছে।'

সিরাজগঞ্জের বন্যা কবলিত এলাকার প্রায় ২০টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা পানিবন্দি থাকায় এ সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা নিয়েও সংশয় আছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জেলার ৭২৯টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার মধ্যে ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দি আছে।'

বন্যার কারণে সংকট থাকলেও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।