উজানের ঢলে সিরাজগঞ্জে তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর জমির ধান

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু

উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে গত কয়েকদিনে সিরাজগঞ্জে যমুনা তীরবর্তী তিন উপজেলায় শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অসময়ের পানিতে ডুবে যাওয়া ফসল বাঁচাতে সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও কাজিপুর উপজেলার কৃষকরা আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আহসান শহিদ সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে যমুনা নদীতে পানি বাড়ায় নদী তীরবর্তী প্রায় ১৩৯ হেক্টর বোরো ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে বাঁধের বাইরে নিচু এলাকায় যারা আগাম বোরো ধান আবাদ করেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উজানের এই ঢলের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কৃষকেরা।

সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের নাসিমা খাতুন জানিয়েছেন, চরের ৭ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন তিনি। আগামী দুই সপ্তাহ পর ধান কাটার কথা ছিল। গত সপ্তাহে আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে তার পুরো ফসলের মাঠ তলিয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে এক বিঘা জমির আধাপাকা ধান কাটতে পারলেও বাকিটা তলিয়ে গেছে।

বেতিল চরের কৃষক বুলবুল আহমেদ বলেন, নদী পাড়ের জমি উর্বর হওয়ায় কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সে আশায় তিনি এ বছর ১১ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। বন্যার আগেই ধান কেটে ঘরে তোলার কথা ছিল। অসময়ে পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে তার আবাদকৃত জমির ফসল। পানিতে নেমে কিছুটা আধা পাকা ধান কাটতে পারলেও বাকিটা তলিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রতিবছর মে মাস থেকে যমুনা নদীতে পানি বারলেও এ বছর উজানের ঢলে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকেই নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়।

নাসির বলেন, মার্চের ১০ তারিখে যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৫ দশমিক ৫ মিটার, এখন হার্ড পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ৯ দশমিক ৭৪ মিটার উচ্চতায়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গত একমাসে নদীতে প্রায় ৪ মিটারের বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি বাড়লেও বিপৎসীমা পার হওয়ার কোনো আশংকা নেই বলে জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা।

উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরজাগঞ্জে যমুনা নদীসহ বড়াল, করতোয়া এবং অন্যান্য নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে অসময়ে পানি বাড়লেও বন্যা হবার মতো পরিস্তিতি হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। কয়েকদিনের মধ্যেই পানি নামতে শুরু করবে।

এদিকে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অসময়ে নদীতে পানি বাড়ার ফলে বাঁধের বাইরে চরের জমিতে কিছুটা ফসলের ক্ষতি হলেও জেলার সার্বিক ফসল উৎপাদনে এর প্রভাব পরবে না।