পাহাড়ি ঢলে সিলেট-সুনামগঞ্জে ৫১৫ হেক্টর বোরো ফসল পানির নিচে

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নিম্নাঞ্চলের ৩৭০ হেক্টর এবং সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ১৪৫ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

হাওরাঞ্চলে পানি বাড়তে থাকায় দ্রুত পানি না নামার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে তলিয়ে যাওয়া বোরো ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

অধিদপ্তরের সিলেট জেলা উপপরিচালক মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং জৈন্তাপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে ৩৭০ হেক্টর বোরো জমি প্লাবিত হয়েছে। জেলার হাওরাঞ্চলে মোট ৩৫ হাজার ৩২০ হেক্টর জমি বোরো আবাদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'এখনই নিশ্চিতভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। সিলেটে যদিও বৃষ্টি হচ্ছে না, কিন্তু ভারতের মেঘালয় আসামে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি বেড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বাড়াবে।'

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সিলেটের সারিগোয়াইন নদী গোয়াইনঘাট উপজেলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ‍উপর দিয়ে এবং জৈন্তাপুরের সারিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের গোয়াইনঘাটে ৭৯ মিলিমিটার এবং লাউড়েরগড়ে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ৪৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৩৯টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ২৯টিতেই পানি বাড়ছে এবং ৯টিতে পানি কমছে বলে তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ সদর পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং জাদুকাটা নদীর পানি লাউড়েরগড় পয়েন্টে বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৬৬ মিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং জৈন্তাপুরের কৃষকরা বেশি ক্ষতির শঙ্কায় আধাপাকা ধান কাটা শুরু করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সিলেটের হাওরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত যেসব এলাকায় ফসল রক্ষা বাঁধ রয়েছে, সেখানে এখনো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি তবে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটে নদীপাড়ে দীর্ঘদিন কোনো বাঁধ না থাকায় পাহাড়ি ঢলে অনেক অঞ্চল, এমনকি লোকালয়ও প্লাবিত হয়েছে।'

চলতি বছরে সিলেট জেলায় কাজের বিনিময়ে টাকা নীতিমালা ২০১৭ এর আওতায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২টি স্কিমের আওতায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জে গত শনিবার টাঙ্গুয়ার হাওরের ২৫ হেক্টর জমি প্লাবিত হওয়ার পর গতরাতে জেলার ৬টি হাওরে আরও ১২০ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জের ‍কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

আগের ২৫ হেক্টরসহ টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর উপজেলা অংশে ৩৫ হেক্টর, একই হাওরের মধ্যনগর অংশের বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩০ হেক্টর, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালনার হাওরের ৫০ হেক্টর, ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের গোয়াপাগুয়ার হাওর এবং চরমহল্লা ইউনিয়নের গরজার হাওরের মোট ৩০ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পানি যদিও ধীরে বাড়ছে, কিন্তু বাড়ছে আর এর ফলে আমাদের শঙ্কা তলিয়ে যাওয়া বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাড়াও ঢলের পানি বাড়তে থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে ক্ষতির পরিমাণ বাড়াবে। জেলায় এবার ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।'