রাজবাড়ীতে ৬৭ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

নেহাল আহমেদ, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে গত দুদিন ধরে আবার পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। জেলার তিনটি পয়েন্টেই পানি এখন বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের হিসাব বলছে, এই জেলায় ৬৭টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীর তিনটি গেজ স্টেশন পয়েন্টের মধ্যে সবগুলোতে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মার পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সদরের মাহেন্দ্রপুর পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

rajbari_2.jpg
ছবি: নেহাল আহমেদ/স্টার

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর, বরাট, খানগঞ্জ, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর, বাহাদুরপুর, কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর, রতনদিয়া ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট তৈরি হয়েছে।

রাজবাড়ীর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল এবং জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম ডেইলি স্টারকে বলেন, জেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৬৭ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী আছেন।

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানম্যান সিরাজুল আলম চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, আমার ইউনিয়নের দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী। ৫০০ পরিবারের জন্য মাত্র দুই হাজার কেজি চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে জানান, আজ পর্যন্ত বন্যা দুর্গতদের জন্য ১০ টন চাল এবং দুই লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

মিজানপুর ইউনিয়নের মৌকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মোল্লা খালেক সর্দার জানান, তাদের দেখতে এ পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধি আসেনি। কোন সহায়তাও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমানের সঙ্গে মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি একবার ফোন ধরে বলেন, 'আমি ব্যস্থ আছি।' পরে তিনি আর ফোন ধরেননি।