অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, কারাগারে আসামি ধলু
বগুড়া শাহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ টাকা কম বকশিস দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি আসাদুল ইসলাম মীর ধলুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বগুড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা মাহমুদ এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ওসমান গনি দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ধলুর কোনো রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওসমান গনি বলেন, 'অভিযুক্ত ধলু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তার রিমান্ড আবেদনের প্রয়োজন পড়েনি।'
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১.৩০ টার দিকে র্যাব-১২-এর একটি দল তাকে ঢাকা থেকে বগুড়ায় আনে। পরে তাকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। বগুড়া র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার সোহরাব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে, গত বুধবার মধ্যরাতে শজিমেক কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে ৩০৪(ক) ধারায় ধুলুর বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা করে। ঘটনার পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ র্যাবের কাছে বিষয়টি জানালে র্যাব-১২-এর একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযুক্ত ধলুকে ঢাকার আব্দুল্লাপুর থেকে গ্রেপ্তার করে।
৫০ টাকা কম বকশিস পেয়ে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালের তৃতীয় তলার সার্জারি ওয়ার্ডে স্কুলছাত্র বিকাশ চন্দ্র কর্মকারের (১৮) অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেন ধলু।
বিকাশ চন্দ্র কর্মকারের চাচা শচীন চন্দ্র কর্মকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পায় বিকাশ। প্রথমে স্থানীয় সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে শজিমেকে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগে বিকাশের চিকিৎসা শেষে মাথায় ব্যান্ডেজ এবং মুখে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে তৃতীয় তলায় সার্জারি বিভাগের ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে মেঝেতে একটি বেড দেওয়া হয়।'
'এসময় রোগীর স্ট্রেচার বহনকারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক কর্মচারী বিকাশের বাবার কাছে ২০০ টাকা বকশিস দাবি করেন। বিকাশের বাবা বিশু সেই কর্মচারীকে জানান, তার কাছে ২০০ টাকা নেই। ১৫০ টাকা আছে বলে তা সেই কর্মচারীর হাতে তুলে দেন,' যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু অভিযুক্ত কর্মচারী ধলু আরও ৫০ টাকা দাবি করলে আমার ভাই বিশু তা দিতে পারেননি। এতে ধলু রেগে যায় এবং বিকাশের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে পা দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকাশের নাক-মুখ থেকে ফেনা বের হয় এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আগেই ওই কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।'
মৃত বিকাশ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী গ্রামের বিশু চন্দ্র কর্মকারের ছেলে। সে স্থানীয় খামার ধনারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত।