এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে ৪ মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর 

প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান, তার ৪ ভাই ও ২ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৫টি মামলার ৪টি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও একটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

আজ সোমবার পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাসুদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গতকাল রোববার এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নির্দেশনা পাওয়ার পর একটি মামলা পিবিআইতে গতকালই হস্তান্তর করা হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকার হেমায়েত উদ্দিন গত ১০ সেপ্টেম্বর রাগীবসহ ৫ ভাই ও ২ কর্মচারী মিজানুর রহমান ও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় হেমায়েত অভিযোগ করেন, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে এহসানের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। কিন্তু, অভিযুক্তরা গচ্ছিত টাকা নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ফেরত দিচ্ছিলেন না।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বাকি ৪টি মামলা আগামীকাল সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১০ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর সদর থানায় আরেকটি অর্থ আত্মসাৎ মামলা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠী এলাকার হারুন অর রশীদ পিরোজপুর সদর থানায় রাগীব, তার ৪ ভাই আবুল বাশার, শামীম, মাহমুদুল হাসান ও খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, এহসানে গচ্ছিত ৯৭ জনের ৯১ কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৩ টাকা আত্মসাৎ করেছে অভিযুক্তরা।

এ মামলায় ওই দিন ঢাকা থেকে রাগীব, তার ভাই আবুল বাশারকে র‍্যাব এবং পিরোজপুর থেকে রাগীবের অপর দুই ভাই মাহমুদুল হাসান ও খায়রুল ইসলামকে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 
মামলায় অভিযুক্ত রাগীবের আরেক ভাই শামীম এখনও পলাতক আছেন।

এরপর ১২ সেপ্টেম্বর ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় শৌলা গ্রামের আবুল হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি রাগীব, তার ভাই বাশার ও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় আরেকটি মামলা করেন।

সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী গ্রামের মো. মনির রাগীব, বাশার ও নাজমুলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলা করেন।

গ্রেপ্তারের পর রাগীব, তার ৩ ভাইসহ মোট ৪ জনকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এমএলএম ব্যবসার নামে পিরোজপুর, বাগেরহাট এবং ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকদের ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে রাগীবের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এহসানে টাকা রাখার জন্য বিভিন্ন মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের দিয়ে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে রাগীব ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ আছে।