কক্সবাজারে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ শ্রমিক লীগ সভাপতির মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার

সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ কক্সবাজার জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার (৪৫) মারা গেছেন।

আজ রোববার বেলা ১টায় চট্টগ্রাম মহানগরের বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফী উল্লাহ আনসারী দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরতলীর লিংক রোডে জহিরুল ইসলাম সিকদার ও তার ছোট ভাই স্থানীয় ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কুদরত উল্লাহ শ্রমিক লীগের কার্যালয়ে ছিলেন। সেসময় দুর্বৃত্তরা মোটর সাইকেলে এসে দুই ভাইকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন আশংকাজনক অবস্থায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই রাতেই তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

গতকাল দুই ভাইয়ের অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসকরা বলছেন, জহির সিকদারের ছোট ভাই ঝিলংজা ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত উল্লাহর শারীরিক অবস্থাও আশংকামুক্ত নয়।  

এদিকে জহিরুল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ নেতা-কর্মী ও তার এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছালে তাৎক্ষণিকভাবে লিংকরোড এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। লিংক রোডে ব্যারিকেড বসিয়ে, গাছের গুড়ি ফেলে বিক্ষোভকারীরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

বর্তমানে সেখানে পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় মুহুরীপাড়ার বাসিন্দা যুবদল কর্মী লিয়াকত আলীকে দায়ী করেছে জহিরের পরিবার ও জেলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা।

তারা জানান, স্থানীয় যুবদল কর্মী লিয়াকত আলী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান সদস্য কুদরত উল্লাহও ওই পদের এক জন প্রার্থী।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনকে ঘিরে দুপক্ষের বিরোধের জেরে লিয়াকত আলী দুই ভাইকে গুলি করেছেন।

এদিকে, গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার জন্য বিএনপি সন্ত্রাসীদের দায়ী করে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকার ফোন করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পুলিশ ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ করছে।