নারায়ণগঞ্জ

কলেজ শিক্ষার্থী মফিজুল হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় কলেজ শিক্ষার্থী মফিজুল ইসলাম হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন ৭ আসামির উপস্থিতেতে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৮)। এছাড়া, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- নজরুল ইসলাম (৫০), বাসেদ মিয়া (৪২), আসাদ মিয়া (৩৮), আলমগীর মিয়া (৩৫), কল্পনা বেগম (৪২), মমতাজ বেগম (৬০), জুয়েল হোসেন (২৬), শাহ জামাল (৪৮) ও শাহ কামাল (৪৫)।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহিদুল ইসলাম, তার ভাই বাসেদ মিয়া ও চাচাতো ভাই আলমগীর মিয়া পলাতক আছেন।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাসমীন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'সোনারগাঁও উপজেলার মুছারচর এলাকায় দেড় শতাংশ জমি নিয়ে রহমত উল্লাহর সঙ্গে জুলহাস মিয়ার বিরোধ ছিল। উভয়ে আত্মীয় হওয়ায় ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর শহিদুল্লাহর বাড়িতে বিচার সালিসের আয়োজন করা হয়। ওইদিন সালিসে না এসে রাতে জুলহাস মিয়ার ছেলে জাহিদুল ইসলাম সহ ১০জন আসামি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহিদুল্লাহর বাড়িতে হামলায় চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় বাধা দিতে আসলে কলেজ শিক্ষার্থী মফিজুল ইসলামকে শাবল দিয়ে আঘাত করে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে।'

তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা শহিদুল্লাহ বাদী হয়ে জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে প্রধান ও বাকি ৯জনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।'

এই আইনজীবী বলেন, 'ওই মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজকে আদালত জাহিদুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়াও, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাকি ৯ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডসহ প্রত্যেককে ৩০ হাজার করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।'

রায়ের সময় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জাহিদুল ইসলাম, বাসেদ মিয়া ও আলমগীর মিয়া পলাতক ছিলেন। আদালত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের বড় ভাই ইব্রাহিম ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার ভাইকে আর ফিরে পাবো না। কিন্তু, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার পেয়েছি। আদালত যে রায় দিয়েছেন এতে আমরা খুশি। আমরা চাই দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক।'