গাইবান্ধায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বগুড়া

গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আব্দুর রউফ মাস্টারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, এক প্রতিবেশী যুবক তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সে বিষয়ে তারা কিছু জানাতে পারেননি।

আব্দুর রউফের বাড়ি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মাগুড়াকুটি গ্রামে। তার বাবার নাম ফজলুল হক। রউফ স্থানীয় লক্ষ্মীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় নেতা ছিলেন। গত ১১ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের ১নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে রউফ লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। আনুমানিক ১০টার দিকে বামনীপাড়া এলাকায় প্রতিবেশী আরিফুর রহমান (৩৪) তাকে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রউফকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার থেকে রউফের মৃত্যু হয়।

এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে আরিফুরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভায়।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আব্দুর রউফের এক আত্মীয় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আক্রমণের সময় আরিফুর একা ছিলেন না। ঘটনার পরে তারা দ্রুত পালিয়ে যান। তাকে কী কারণে হত্যা করা হলো সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত না। কারণ আরিফুরের সঙ্গে রউফ মাস্টারের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না। তবে কারো ইন্ধনে আরিফুর এই কাজ করতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রউফ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঠিক কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী আরিফুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।'

তিনি আরও বলেন, 'এই ঘটনার পরে আরিফুর এবং তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা থেকে পালিয়েছে। অভিযুক্ত আরিফুর খাদ্য অধিদপ্তরের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা তাকে ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করেছি। রাতে উত্তেজিত জনতা আরিফুরের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।'