গুলি করে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ কাদের মির্জার অনুসারীর বিরুদ্ধে
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক যুবলীগ নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ও গুলি করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার দুপুর ১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল এলাকায় একটি ফার্নিচার দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবলীগ নেতা শাহাজাহান সাজু (৩৮) উপজেলা যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী।
গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে বিকেলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রোমেল এ তথ্য নিশ্চিত করে হামলার জন্য কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাসেল ও তার বাহিনীকে দায়ী করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রোমেল জানান, কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ আহম্মেদ স্কুলের পাশে এশিয়ান ফার্নিচার নামে একটি দোকানে বসে ছিলেন যুবলীগ নেতা শাহাজাহান সাজু। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ করে কাদের মির্জার অনুসারী শহীদুল্লাহ রাসেল ওরফে কেচ্ছা রাসেলের নেতৃত্বে সাত-আট জন সিএনজিচালিত দুটি অটো রিকশায় এসে সাজুর ওপর লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা পিটিয়ে সাজুর মাথায় ও শরীরে গুরুতর জখম করে, বাম পা ও দুই হাত ভেঙে দেয় এবং আট থেকে দশ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এতে সাজু গুরুতর আহত হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর জখম অবস্থায় শাহাজাহান সাজু নামে একজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার দুই পা ও হাত গুলিবিদ্ধ এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।'
কাদের মির্জার ভাগ্নে উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহাবুবুর রশিদ মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, 'কাদের মির্জা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। কিন্তু তার পালিত ক্যাডার কেচ্চা রাসেল ও তার বাহিনী কোম্পানীগঞ্জে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। কেচ্ছা রাসেল এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা করিম উদ্দিন শাকিলের দুই পায়ে গুলি করে। এরপরেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে কেচ্ছা রাসেলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন তার দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে।'
এ বিষয়ে জানতে কাদের মির্জা ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুলের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, বসুরহাট পৌরসভার মওদুদ স্কুল এলাকায় কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ সাজু গুলিবিদ্ধ হয়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই গুলিবিদ্ধ সাজুকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আকরামুল হাসান বলেন, 'হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।'
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্ত্রী বাড়ির সামনে বন্ধুর মায়ের জানাজা থেকে ফেরার পথে ছাত্রলীগ নেতা করিম উদ্দিন শাকিলকে (২৫) দুপায়ে গুলি করে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ রয়েছে কেচ্ছা রাসেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।