চাঁদাবাজি মামলায় খালাস পেলেন নূর হোসেন ও ৪ সহযোগী
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি চাঁদাবাজি মামলায় খালাস পেয়েছেন নায়ারণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ তার ৪ সহযোগী।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- নূর হোসেন, তার ভাতিজা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, ভাই নূর উদ্দিন ও সহযোগী লোকমান হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) সাবিনা ইয়াসমিন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। একই সঙ্গে অস্ত্র মামলায় রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেন আদালত।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট জাসমীন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজ ৪টি মামলায় নূর হোসেনসহ তার সহযোগী ৮ জন আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। দুটি (মাদক ও চাঁদাবাজি) মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ থাকলেও সাক্ষীরা আসেনি, একটি অস্ত্র মামলায় যুক্তিতর্ক হয়েছে আগামী ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। আরেকটি চাঁদাবাজি মামলায় নূর হোসেনসহ অভিযুক্ত ৪জন খালাস পেয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন, '২০১৬ সালে সাইদুল ইসলাম নামে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা নূর হোসেন ও তার ৮ সহযোগীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা শিমরাইল এলাকায় বাস, ট্রাক, অটোরিকশা থেকে সবসময় চাঁদা নিতেন। আর যারা চাঁদা দিতেন না তাদের গাড়ি চলতে দেওয়া হতো না। বাদী সাইদুল ইসলামের কাছে তারা ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে নূর হোসেনসহ অন্যান্য সহযোগীরা সাইদুলের দুটি অটোরিকশা নিয়ে আটকে রাখে। তখন ১০ হাজার টাকা দিলে নূর হোসেন একটি অটোরিকশা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আরেকটি অটোরিকশা আটকে রাখে। পরবর্তীতে এ মামলায় পুলিশ ৪ জনকে বাদ দিয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ৮জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে এই রায় দেন।'
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকাল ৯টায় কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে দুপুর ১টায় পুনরায় কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।'
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই বছরে হাইকোর্ট নূর হোসেন এবং র্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছে। এরপর থেকে নূর হোসেন কারাগারে আছেন।