যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ‘জরুরি’: ইসহাক দার
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন।
বার্তাসংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।’
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এই সহযোগিতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।’
আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও জানান, তেহরানকে ‘সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়েছিল।
ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘মৌলিক প্রতিশ্রুতি’ চেয়েছিল, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি তাদের কাছ থেকে পাইনি।’
তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য ইরানকে সময় দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, আলোচনা চলাকালীন তারা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়। এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
জে ডি ভ্যান্সের মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে’, তবে ‘দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য’ রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘৪০ দিনের এক চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর চরম অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শুরু থেকেই মাত্র একটি বৈঠকের মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা না করাটাই ছিল স্বাভাবিক। প্রকৃতপক্ষে, কেউই তেমন কিছু আশা করেনি।’
এর আগে বাগাই বলেছিলেন যে, এই আলোচনার সাফল্য নির্ভর করছে ‘প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা’ এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবির’ কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইসলামাবাদের এই আলোচনা নস্যাৎ হয়ে গেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি জানায়, ইরানি প্রতিনিধিদল দেশের জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়েছিল। ইরানি প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মার্কিন পক্ষের অযৌক্তিক দাবি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনাটি শেষ হয়ে যায়।