ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে তার প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ছাড়ছে।
আলোচনায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ না করার শর্তসহ আমেরিকার দেওয়া কোনো শর্তই ইরান মেনে নিতে রাজি হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
আলোচনা শেষে আজ রোববার ইসলামাবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘দুঃসংবাদ হলো যে আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমার মনে হয়, এটি আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্যই অনেক বড় দুঃসংবাদ।’
‘সুতরাং কোনো চুক্তি ছাড়াই আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে হচ্ছে। আমাদের অলঙ্ঘনীয় শর্ত বা রেড লাইন সম্পর্কে আমরা কোনো অস্পষ্টতা রাখিনি।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, আলোচনা চলাকালীন তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত ছয়বার কথা বলেছেন।
এরইমধ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ছেড়েছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
এই আলোচনার ফলাফলের ওপরই দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভরশীল।
হরমুজ প্রণালি হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ইরান সরকার জানিয়েছে, আলোচনা শেষ হয়েছে এবং এখন উভয়পক্ষের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা নথিপত্র বিনিময় করবেন।
ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘কিছু মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ তবে এটি কবে নাগাদ পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিরতিতে যাওয়ার আগে ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন।
ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শুক্রবার কালো পোশাক পরে আলোচনায় অংশ নিতে যান। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং যুদ্ধে নিহত অন্যদের প্রতি শোক প্রকাশে তারা এই কালো পোশাক পরেন।
ইরান সরকার জানায়, একটি সামরিক ঘাঁটির পাশে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত কিছু শিক্ষার্থীর জুতো এবং স্কুল ব্যাগও তারা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ওই হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে রয়টার্স বলছে, সামরিক তদন্তকারীরা মনে করেন এই হামলার জন্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী ছিল।
প্রথম দফার আলোচনার আবহ সম্পর্কে পাকিস্তানের আরেকটি সূত্র জানায়, বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যেই মেজাজের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়; ক্ষণে ক্ষণে বদলায় আলোচনার উত্তাপ।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে ২০ লাখের বেশি মানুষের শহর ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাস্তায় হাজার হাজার আধা-সামরিক ও নিয়মিত সেনাসদস্য মোতায়েন করে পুরো শহরকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পাকিস্তানের জন্য এক অভাবনীয় রূপান্তর। অথচ মাত্র এক বছর আগেও দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় কূটনৈতিক নিঃসঙ্গ বা একঘরে অবস্থায় ছিল।