জুলহাজ-তনয় হত্যা: আনসার আল ইসলামের ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর কলাবাগানে বাড়িতে ঢুকে ইউএসএইডের সাবেক কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বি তনয় হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ছয় সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় ঢাকার সন্ত্রাস দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া, আকরাম হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন সাইমন, আরাফাত রহমান সিয়াম, শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ও আসাদুল্লাহ ওরফে ফয়জুল। আদালত একইসঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় সাব্বিরুল হক চৌধুরী ও জুনায়েদ আহমেদ ওরফে মাওলানা জুনায়েদকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এদের মধ্যে জিয়া, আকরাম, সাব্বিরুল ও জুনায়েদ পলাতক। মোজাম্মেল, আরাফাত, আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ কারাগারে আছেন।
মামলার বাদী জুলহাজের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার ভাইকে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি তদন্ত করে অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত বিচার চেয়ে মামলা করেছিলাম৷ দীর্ঘদিন পর আজ রায় হয়েছে। ঘাতকরা আমার অজ্ঞাত। আমি কাউকে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারিনি। তাই রায়ে সন্তোষ বা অসন্তোষ প্রকাশের অবকাশ আমার নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল যারা পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন, এ ক্ষেত্রে তাদের মতামত নেওয়াই ভালো হবে।'
এই মামলায় ২৪ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল বাড়িতে ঢুকে জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় কলাবাগান থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়। জুলহাজের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন হত্যা মামলা এবং কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামীম অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।
২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আট জনের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম। গত বছরের ১৯ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার শুরু হয়।
চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি একই ট্রাইব্যুনাল রাজধানীর শাহবাগ এলাকার আজিজ সুপার মার্কেটের ভেতরে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরফিন দীপনকে হত্যার দায়ে জিয়া, আকরাম, মোজাম্মে ও আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যার দায়ে জিয়া, আকরাম, মোজামেল ও আরাফাতকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।