জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বাবরের ৮ বছরের সাজা
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ৮ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর দুটি ধারায় বাবরকে এই সাজা দেন।
রায়ে বিচারক বলেন, প্রসিকিউশন বাবরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একজন আইন প্রণেতা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েও সম্পদের তথ্য গোপণ ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জন করায় তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তি প্রদান যুক্তিযুক্ত মনে করি।
'তবে আসামির অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ও অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনা করে আসামিকে সম্পদের তথ্য গোপনের জন্য ২৬ (২) ধারায় ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জনের জন্য একই আইনের ২৭ (১) ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম।'
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ১৬ জুলাই দুদক তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
এরপর ওই বছরের ১২ আগস্ট অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
অভিযোগ গঠনের আদেশের পর বাবর নিম্ন আদালতের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
শুনানির পর হাইকোর্ট মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত করে দুদক ও সরকারকে বাবরের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না তা ব্যাখ্যা করতে রুল জারি করেন।
এরপর ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিম্ন আদালতকে ৬ মাসের মধ্যে মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ করতে বলেন।
এর আগে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর গুলশানের বাসভবনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার জন্য বাবরকে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া, লুৎফুজ্জামান বাবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।