ডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার আগেই তুলে নেওয়ার অভিযোগ
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে যাওয়ার আগেই এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ডিবি।
আজ সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কাছ থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক ব্যবসায়ী জেড এম ফেরদৌসকে তুলে নিয়ে যায় বলে তার স্ত্রী তিশা আক্তার জানিয়েছেন।
জেড এম ফেরদৌস একজন জনশক্তি ব্যবসায়ী এবং আমার প্রাণের বাংলাদেশ নামে একটি পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
বৃহস্পতিবার এক আমন্ত্রণ পত্রে ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, তাকে নির্যাতনের অভিযোগে ডিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনি শুক্রবার সকালে ডিআরইউ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করবেন। আগের অফিসে পাওনা বেতন দাবি করায় তাকে ডিবি পুলিশের মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধ আইনে ডিবি কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। মামলার পর ওই ডিবি কর্মকর্তা তাকে 'ক্রসফায়ারের' হুমকি দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে তার স্ত্রী তিশা আক্তার বলেন, 'ফেরদৌস আজ সকাল ৯টার দিকে ডিআরইউতে ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে যায়। তখন সাদা পোশাকের ৬ জন লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়।'
তিনি জানান, সারাদিন তিনি স্বামীর সন্ধান পাননি এবং তার ফোন নম্বরও বন্ধ পেয়েছেন।
পরে সন্ধ্যায় তিনি একজন ডিবি কর্মকর্তার কাছ থেকে একটি বার্তা পান। বার্তায় বলা হয় যে তার স্বামী ডিবির হেফাজতে আছে।
তিশা বলেন, 'সন্ধ্যায় ডিবির একটি দল ফেরদৌসকে হাতকড়া পরিয়ে বাসায় নিয়ে আসে। তারা জানায় তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'
'তারা বাসা থেকে আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার কিছু কপি নিয়ে গেছে,' যোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, ফেরদৌস আগে যেখানে কাজ করতেন, সেই জনশক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ডিবির পরিদর্শক শফিক রহমান ডেইলি স্টারকে জানান, 'মামলার পর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফেরদৌসের স্ত্রী অবশ্য অভিযোগ করে বলেন, 'মামলাটি আগেই হয়েছিল। কিন্তু এতদিন ডিবি ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার করেনি। যখন তিনি একজন পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছিলেন তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।'
ফেরদৌস অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরেও প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ জমা দেন।
এর আগে ১৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে ফেরদৌস জানান, তিনি তুরাগ এলাকার একটি জনশক্তি সংস্থায় মহাব্যবস্থাপক হিসেবে ৮ বছর চাকরি করেন। সেখানে কমিশন, বেতন ও ব্যবসার অংশ হিসেবে তাদের কাছে তার প্রায় ২ কোটি টাকা পাওনা ছিলেন। টাকা পেতে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করলে গত ৯ সেপ্টেম্বর ডিবির এক কর্মকর্তা তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্যাতন করে একটি সাদা কাগজে সই করতে বাধ্য করে ডিবি।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফেরদৌসের নামে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে দেড় মাস আগের একটি মামলা আছে। মামলায় ওয়ারেন্টও জারি হয়েছে।'
'তাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রীকেও জানানো হয়ছে,' বলেন তিনি।